লাহোর, ১১ মে: ভারতে যত জঙ্গি কার্যকলাপ হয়েছে সবগুলির পিছনেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। এই কথা বারবার বলা হয় ভারতের তরফে। দেওয়া হয় পর্যাপ্ত প্রমাণও, কিন্তু বরাবরই সেই অভিযোগ খারিজ করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, তাঁরাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু গত, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে নিজেদের নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে নিয়ে চলে এসেছে পাকিস্তান। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। সেই হামলার দায় স্বীকার করেছে টিআরএফ। এটি জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। আর লস্কর জঙ্গিদের পরোক্ষভাবে কারা মদত দিচ্ছে, কাদের ছত্রছায়ায় রয়েছে সেটা সকলেরই জানা।
পহেলগাঁওতে হামলার পিছনে হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমনটাই অভিযোগ নয়াদিল্লির। যদিও বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে ইসলামাবাদ। পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার ঘটনায় যখন ক্ষোভে ফুঁসছে ভারতীয়রা। তার মাঝেই পুলওয়ামার স্মৃতি উস্কে দিয়ে সেই ক্ষোভ তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শাল ঔরঙ্গজেব আহমেদ। সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পিছনে পাক সেনার হাত রয়েছে। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ। যদিও পাক সরকার এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগ খারিজ করে দিয়েছিল তখন। কিন্তু পাকিস্তানের বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শালের বক্তব্যে এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে পুলওয়ামা হামলা ছিল ইসলামাবাদের মস্তিস্কপ্রসূত। ঔরঙ্গজেব আহমেদ দু’দিন আগে জানান, ‘পাকিস্তানের আকাশসীমা, স্থলভাগ বা জলভাগের সুরক্ষায় আপোসের কোনও প্রশ্নই নেই। এখানকার মানুষদের জীবন হুমকির মুখে পড়লে, তাদের জীবনহানি হলে বা দেশের কোনও ক্ষতি হলে তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আমাদের দেশের কাছে ঋণি আমরা। আমাদের বাহিনীর প্রতি দেশের মানুষের সেই আস্থা রয়েছে। আমরা তাদের বলতে চাইব, পুলওয়ামায় আমাদের কৌশলগত প্রতিভার কথা। এবারও আমাদের ক্ষমতা কতটা সেটা দেখিয়ে দিলাম। তাই এবার ভারতের লুকনো উচিত।’
অর্থাৎ পাক বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শালের কথায় পুলওয়ামা হামলাতে তাঁদেরই হাত ছিল সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যা এতদিন অস্বীকার করে এসেছিল তাঁরা। এই বক্তব্য যখন রাখছেন ঔরঙ্গজেব আহমেদ তখনই পাশে বসেছিলেন ডিজি আইএসপিআর লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরি ও নৌসেনার মুখপাত্র। বায়ুসেনার এয়ার ভাইস মার্শালের এই মন্তব্যের পরই গোটা বিশ্বে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। যদিও নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত এর কোনও পাল্টা দেয়নি।