Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পাক অধিকৃত কাশ্মীর আপনা থেকেই ভারতে আসবে, সুর বদল রাজনাথের

সংসদের বাইরে অথবা নির্বাচনী সমাবেশ। এতদিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির তাবৎ নেতৃত্ব জোরগলায় প্রচার করতেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করে নেওয়া হবে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীর আপনা থেকেই ভারতে আসবে, সুর বদল রাজনাথের
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বাইরে অথবা নির্বাচনী সমাবেশ। এতদিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিজেপির তাবৎ নেতৃত্ব জোরগলায় প্রচার করতেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করে নেওয়া হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। বলা হতো জওহরলাল নেহরুর ভ্রান্ত নীতি এবং সাহসিকতার অভাবের কারণে কাশ্মীরের ওই অংশ চলে গিয়েছে পাকিস্তানের কাছে। এবার নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বধীন সরকার সেই ভুল সংশোধন করবে। যে কোনও সময় পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করে অখণ্ড কাশ্মীর তৈরি হয়ে যাবে। এই প্রচার এমনই জোরদার ছিল যে, অপারেশন সিন্দুর শুরু হওয়ার পর দেশবাসীরও প্রত্যাশা ছিল এবার বোধহয় সেই সময় এসেছে। অর্থাৎ দখল হয়ে যাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। কিন্তু দেশকে কার্যত বিস্মিত করেই আচমকা যুদ্ধবিরতি হয়ে যায়। তারপর থেকে একটানা ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে, ওই যুদ্ধ তিনিই থামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই দাবি সত্যি হোক অথবা মিথ্যা, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ভারতের পাক অধিকৃত কাশ্মীর নীতিতে বড় বদল ঘটে গিয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে আর কোনও উচ্চগ্রামের প্রচার ও দাবি আজকাল লক্ষ্য করা যায় না। বরং উলটে সোমবার মরক্কো সফরে যাওয়া দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন, ভারত আর পাক অধিকৃত কাশ্মীর আক্রমণ করবে না। রাজনাথ সিং বলেছেন, আমাদের আর পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করার দরকারই হবে না। কারণ কী? রাজনাথ বলেছেন, একদিন সময় আসবে, যখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা নিজেরাই ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাইবে। সেদিন পাক অধিকৃত কাশ্মীর প্রকাশ্যে বলবে, ম্যায় ভি ভারত হুঁ। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা তাদের প্রশাসকদের উপর সন্তুষ্ট নয়। তারা ক্ষুব্ধ। তারা মুক্তি চাইছে। তারা স্বাধীনতা চাইছে। তারা নিজেরাই বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর সরকারের একাধিক মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করে নেওয়া হবে। অথচ রাজনাথ সিং এদিন  বিপরীত কথা বললেন। সুতরাং পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখলের সুযোগ হারিয়ে এবার মোদি সরকারের নতুন অবস্থান হল, অপেক্ষা করা, কবে সেখানকার মানুষ নিজেরাই পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভারতে চলে আসবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ