জম্মু: পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা যায় না। তাই সীমান্তে নজরদারিতে এতটুকু ঢিলেমি দিতে নারাজ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। আর ঠিক এই কারণেই ‘অপারেশন সিন্দুর’ এখনও জারি রয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জম্মু ফ্রন্টিয়ারের আইজি শশাঙ্ক আনন্দ। তাঁর দাবি, পহেলগাঁও হামলার ভারত প্রত্যাঘাত করতেই পাক সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়ে গিয়েছে। কখনও ড্রোন, কখনও জঙ্গি আবার কখনও খোদ পাক সেনাও গোপনে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, বিএসএফ জওয়ানদের অতন্দ্র প্রহরা তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বিএসএফের মহিলা জওয়ানদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিএসএফের ওই শীর্ষ কর্তা। পাশাপাশি, এদিন অপারেশন সিন্দুরের আরও কিছু অপ্রকাশিত ফুটেজ প্রকাশ করেছে বিএসএফ। যেখানে পাক ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ও পাক সেনার ছাউনিতে হামলা ও পাক রেঞ্জারদের পালানোর ছবি ধরা পড়েছে।
পাক সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোস্টগুলি রক্ষায় সহকারী কমান্ড্যান্ট নেহা ভাণ্ডারীর মতো বিএসএফের মহিলা জওয়ানদের অবদানের প্রশংসা করেন আইজি। অন্যদিকে, সাম্বা সেক্টরের একটি পোস্টকে অপারেশন সিন্দুরের নামে এবং আরও দু’টি পোস্ট শহিদদের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব দেন তিনি। এদিন সংবাদমাধ্যমের তরফে জানতে চাওয়া হয়, সীমান্তের ওপার থেকে পাক সেনার গোলাবর্ষণের আড়ালে কি জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে? উত্তরে বিএসএফের আইজি বলেন, ‘গোয়েন্দাদের তরফে কিছু খবর আমাদের কাছেও এসেছে। তবে, আমাদের জওয়ানরা কোনও ঢিলেমি দিচ্ছে না। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি জারি রেখেছি।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘ওদের (পাকিস্তান) বিশ্বাস করা যায় না। আর সেজন্যই অপারেশন সিন্দুর এখনও চলছে।’
বিএসএফের আইজি এদিন স্বীকার করেন, পাক শেলিংয়ের ফায়দা তুলে গত ৮ মে শিয়ালকোট সেক্টরে ৪০ থেকে ৫০ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, বিএসএফের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছতে বাধ্য হয়। তারপর ৯ ও ১০ মে সীমান্তে বিএসএফের পোস্টগুলিকে নিশানা করে গোলাবর্ষণের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয় পাক সেনা। ১০ মে সকালে একাধিক পাকিস্তানি ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়। যদিও, এই ড্রোন হামলায় দুই বিএসএফ জওয়ান ও একজন সেনা জওয়ান শহিদ হন বলেই জানান তিনি।
এছাড়া এদিন অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আরও বেশ কিছু ফুটেজ প্রকাশ করে বিএসএফ। সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে অন্তত ২.২ কিলোমিটার ভিতরে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে থাকা তিনটি জঙ্গি শিবির ও পাক সেনা ছাউনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইজি শশাঙ্ক আনন্দ বলেন, ‘গত ৯ মে রাতে নিখুঁত হামলায় লস্করের লুনি ক্যাম্প ধ্বংস করেছে সেনাবাহিনী। আবার আরএস পুরা সেক্টরের ঠিক উল্টোদিকে থাকা মাস্তপুরের জঙ্গি লঞ্চপ্যাডও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাক রেঞ্জার্সদের পালাতেও দেখা গিয়েছে ভিডিও ফুটেজে।’ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গিরা সুড়ঙ্গ দিয়ে সীমান্ত পেরিয়েছিল বলে তথ্য সামনে এসেছে। সীমান্তে যাতে এধরনের কোনও সুড়ঙ্গ সক্রিয় না থাকে, তা নিশ্চিত করছে বিএসএফ ও সেনাবাহিনী বলেও এদিন জানিয়েছেন আইজি শশাঙ্ক আনন্দ।