নয়াদিল্লি: টপ সিক্রেট। যেন কাক-পক্ষীতেও টের না পায়! ঠিক এই কৌশলেই যৌথভাবে পহেলগাঁও হামলার ছক করেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও লস্কর-ই-তোইবা। আর তাদের এই সিক্রেট মিশনের নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব। আগাগোড়া গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই মিশনে নামানো হয়েছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানি জঙ্গিদের। হামলাকারী দলে রাখা হয়নি স্থানীয় কোনও জঙ্গিকেই। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এই খবর মিলেছে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় যুবক ছিলেন। সূত্রের খবর, একেবারে ২৬/১১ মুম্বই হামলার ধাঁচে পহেলগাঁও হামলার ছক কষেছিল আইএসআই ও লস্কর-ই-তোইবা। আইএসআইয়ের তরফে লস্করের পাকিস্তানি কমান্ডার সাজিদ জাটের কাছে এসেছিল সুনির্দিষ্ট নির্দেশ। কী ছিল সেই বার্তা? জাটকে আইএসআই সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, হামলার গোপনীয়তা বজায় রাখতে টিমে কোনও কাশ্মীরি জঙ্গিকে রাখা যাবে না। দল সাজাতে হবে শুধুমাত্র পাকিস্তানি জঙ্গিদের নিয়ে। এজন্য লস্করের যেসব পাকিস্তানি জঙ্গি বেশ কিছু সময় ধরে কাশ্মীরে সক্রিয় রয়েছে, হামলাকারী দল বানাতে হবে তাদের নিয়ে। একেবারে আবশ্যক না হয়ে পড়লে গোপন এই মিশনের সঙ্গে কোনও স্থানীয়কে যুক্ত করা চলবে না। সেই সূত্রেই পহেলগাঁওয়ে হামলাকারী দলের নেতৃত্বভার দেওয়া হয়েছিল সুলেমান নামে এক পাকিস্তানি জঙ্গিকে। এই সুলেমান পাকিস্তানি স্পেশ্যাল ফোর্সের প্রাক্তন কমান্ডো বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত লস্করের মুরিদকে ক্যাম্পে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল। সুলেমান এম-৪ আগ্নেয়াস্ত্র সহ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে জম্মু অঞ্চলে ঢুকেছিল ২০২২ সালে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে পুঞ্চে সেনা ট্রাকে হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল এই পাক জঙ্গি। ওই হামলায় প্রাণ গিয়েছিল পাঁচ সেনার। এরপর টানা দু’বছর কার্যত অন্তরালে কাটানোর পর পহেলগাঁও হামলার কোর টিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব চাপে সুলেমানের কাঁধে। এই স্কোয়াডের সদস্য ছিল আরও দুই পাক জঙ্গি। তবে সেই দু’জন কারা, তদন্তকারীদের তরফে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
স্যাটেলাইট ফোনের বিশ্লেষণ থেকে তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলার সপ্তাহ খানেক আগে ১৫ এপ্রিল নাগাদ সুলেমানের অবস্থান ছিল ত্রাল এলাকার জঙ্গলে। ওই এলাকাটি ঘটনাস্থল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণের একেবারে কাছেই। এর আগে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিসের সন্দেহ ছিল, পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গি হাসিম মুসা ও আলি ভাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সুলেমানের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছেন। এমনকী স্থানীয় জঙ্গি আদিল হুসেন মুসার ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়েও হলফ করে কিছু বলছেন না তাঁরা। এক প্রবীণ আধিকারিকের কথায়, নারকীয় হত্যালীলার সঙ্গে কোনও স্থানীয় জঙ্গি জড়িত ছিল না। হামলার ছক সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কোনও তথ্যও ছিল না স্থানীয় জঙ্গিদের কাছে। গত মাসে পহেলগাঁওয়ের দুই স্থানীয় জঙ্গি পারভেজ আহমেদ জোথার ও বসির আহমেদ জোথারকে গ্রেপ্তার করেছিল এনআইএ। তবে হামলার ছক সম্পর্কে তাদের বিশেষ কিছু জানা ছিল না বলেই মত গোয়েন্দাদের। এই দুই স্থানীয় জঙ্গি কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে হামলাকারী ওই পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের জন্য খাবার, আশ্রয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।