Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হাফিজকে নিয়ে পাকিস্তানে অবাধে ঘুরছে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড সইফুল্লা, প্রকাশ্যে ভিডিও

অপারেশন সিন্দুরের পরেও হুঁশ ফেরেনি পাকিস্তানের। সেদেশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে জঙ্গিদের পান্ডারা। তাদের ভারত বিরোধী কার্যকলাপে মদত দিচ্ছে খোদ পাকিস্তান সরকার।

হাফিজকে নিয়ে পাকিস্তানে অবাধে ঘুরছে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড সইফুল্লা, প্রকাশ্যে ভিডিও
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ: অপারেশন সিন্দুরের পরেও হুঁশ ফেরেনি পাকিস্তানের। সেদেশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে জঙ্গিদের পান্ডারা। তাদের ভারত বিরোধী কার্যকলাপে মদত দিচ্ছে খোদ পাকিস্তান সরকার। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তোইবার সভায় দেখা গিয়েছে  পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড সইফুল্লা কাসুরি খালিদকে। সেখানে রীতিমতো ‘ভিআইপি’ মর্যাদা দেওয়া হয় তাকে। সইফুল্লার পাশেই ছিল লস্কর-ই-তোইবার প্রধান তথা ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদ। হাফিজের সঙ্গে অন্যতম অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিল সইফুল্লা। তাকে ফুল ছুড়ে স্বাগত জানানো হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সইফুল্লার জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। হাতে একে-৪৭ রাইফেল ও এম-১৪ কার্বাইন নিয়ে সইফুল্লাকে ঘিরে রেখেছিল রক্ষীর দল। সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলায় একাধিক লস্কর নেতাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তার জন্যই সইফুল্লাকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

অপারেশন সিন্দুরের সময় পাকিস্তানের মুরিদকেতে লস্করের প্রধান ঘাঁটিকে টার্গেট করেছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু সেই প্রত্যাঘাতে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে যায় হাফিজ। তারপর আত্মগোপন করে থাকলেও লস্কর প্রধানকে ফের প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। তবে, সইফুল্লা ও হাফিজের ওই ভিডিও কোথায় ও কবে তোলা হয়েছে, তা জানা যায়নি। বিভিন্ন সূত্রে খবর, অপারেশন সিন্দুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পর ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে লস্কর, জামাত-উদ-দাওয়া ও জয়েশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি। তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বের করে জেহাদের নামে টাকা জোগাড় করা হচ্ছে। উল্লেখজনকভাবে পাকিস্তানে রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদেরও ওই সব কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশে পড়ুয়াদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির মদত ছিল, তা স্পষ্ট জানিয়েছে সইফুল্লা। সম্প্রতি লাহোর থেকে ৪০০ কিমি দূরে রহিম ইয়ার খানে লস্করের অন্য এক সভায় সে বলেছে, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়েছি।’ পহেলগাঁও হামলার চক্রীর বক্তব্য, ‘১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়, তখন আমার চার বছর বয়স। তত্কালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেছিলেন, দুই দেশ নীতি তিনি বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দিয়েছেন। আমরা ১৯৭১ সালের বদলা নিয়েছি।’ অপারেশন সিন্দুরে লস্করের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাও ঘুরিয়ে মেনে নিয়েছে সইফুল্লা। সে জানিয়েছে, ভারতের প্রত্যাঘাতে তার এক সঙ্গী টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এর আগে লস্করের অপর এক কমান্ডার মুজাম্মিল হাশমি এক সভায় দাবি করেছিলেন, ‘আমরাই ভারতের বন্ধু হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়েছি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ