নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের (জিপিএফ) টাকা মেটানোর সময় (ফাইনাল ডিসপোজাল) অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া নিয়ে রাজ্য অর্থদপ্তরকে সতর্ক করল প্রিন্সিপ্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (পিএজি) অফিস। জিপিএফ খাতে হিসেবের গোলমালের জন্য সুদ বাবদ অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ১৫টি ক্ষেত্রে মোট ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে বলে এজি অফিস থেকে লিখিতভাবে অর্থদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এভাবে সুদ খাতে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া বন্ধ করতে কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, সেটাও এজি অফিসের পক্ষ থেকে অর্থদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এই বার্তা পাওয়ার পর অর্থদপ্তর থেকে সব দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারি কর্মীরা অবসর নিলে বা চাকরি ছাড়লে কিংবা চাকরিরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে জিপিএফ তহবিলে জমা টাকার সুদ সহ চূড়ান্ত হিসেব করে তা মিটিয়ে দেওয়া হয়। কর্মরত অবস্থায় জিপিএফ তহবিল থেকে জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে পারার ব্যবস্থাও আছে। এজি অফিস থেকে রাজ্য অর্থদপ্তরকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে এভাবে আগাম টাকা যাঁরা নিয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্য সুদের হিসেবে গোলমাল হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, তার নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কর্মী মহলের বক্তব্য, গ্রুপ ডি ছাড়া বাকি তিন শ্রেণির সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের ক্ষেত্রে পিএফের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পিএজি অফিস থেকে দেওয়া হয়। সব সরকারি অফিসের ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) কোনও কর্মীর অবসর নেওয়ার ৬ মাস আগে পিএফ, পেনশন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পিএজি অফিসে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে অনুমোদন এলে তবেই টাকা দেওয়া হয়। গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি রাজ্য অর্থদপ্তরের একটি বিশেষ শাখা দেখভাল করে।