


ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা নন, তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শুধুমাত্র সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে চারশোর বেশি রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করে দেয় মহম্মদ ইউনুস সরকার। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছিলেন, তারাই শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা। বাকিরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। যেহেতু মুজিবুর রহমান সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেননি, তাই তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন না। এই সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হতেই দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ইউনুস সরকার। সাধারণ মানুষও তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। চাপের মুখে একদিনের মধ্যেই সেই অধ্যাদেশ বাতিল করতে বাধ্য হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বুধবার সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ঘোষণা করেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রতিষ্ঠিত মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী ও সদস্যরা সকলেই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’। তবে ওই সরকারকে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। যদিও ইউনুস সরকার বিজ্ঞপ্তি বাতিলের কথা স্বীকার করতে চায়নি। বরং পুরো বিষয়টিকেই ভুয়ো বলে দগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তাফা সারোয়ার ফারুকি। বুধবার তিনি জানিয়েছেন, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমেদের মতো নেতাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টি ‘ফেক নিউজ’। নতুন অর্ডিন্যান্সে মুজিবনগর সরকারের সব সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধার স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া আছে। প্রমাণ হিসেবে ‘স্ক্রিনশট’ ফেসবুকে পোস্টে করেন ফারুকি।
যদিও ফারুকির দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গত ১০ মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়ায় সই করেছিলেন স্বয়ং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক। তখনই বলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সহ চারশোর বেশি নেতা আর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন না। সেই সময়ও বাংলাদেশে এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে এই খসড়া নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেন। উপদেষ্টা পরিষদের অন্দরেও এই নিয়ে মতের অমিল হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ মে খসড়াটিকে আইন মন্ত্রকের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে খসড়াটি চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। তারপর রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী, অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়।