রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে পশ্চিমাঞ্চলের এক মন্ত্রীর হাজিরা কম ছিল। তাঁকে ফোন করে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা হাজিরা কম থাকার কারণ জানতে চায়। ওই মন্ত্রীর ব্যাখ্যা ছিল, দপ্তরের মিটিং এবং দলের অন্য কর্মসূচিতে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। মন্ত্রীর সেই বয়ানের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে পরামর্শদাতা সংস্থা।
এটি একটি উদাহরণ মাত্র! এভাবেই জনপ্রতিনিধিদের উপর জেলাজুড়ে নজরদারি চালাচ্ছে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা। তৈরি হচ্ছে তালিকা। বিধানসভা এলাকায় কতদিন ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবির হয়েছে, তার মধ্যে কতদিন বিধায়ক গিয়েছেন—এসব তথ্য সংবলিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
গত ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। বুথের মানুষই ঠিক করছেন তাঁদের এলাকায় কোন উন্নয়নের কাজ হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজ্য সরকারের নিবিড় জনসংযোগের একটি নয়া মাধ্যম এই কর্মসূচি। তাই শিবিরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের। মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, কাউন্সিলারদের নিয়মিত এই কর্মসূচির শিবিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অবস্থায় কোন কোন জনপ্রতিনিধি শিবিরে এখনও পর্যন্ত যাননি বা নিয়মিত যাচ্ছেন না, তার তালিকা তৈরি করছে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক জনপ্রতিনিধিকে ফোন করে না যাওয়া বা অনিয়মিত যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। উপযুক্ত কারণ দেখালে একটি নির্দিষ্ট তালিকায় নাম উঠছে। অন্যথায় জনপ্রতিনিধিদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে আরও একটি তালিকায়।
প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরগুলিতে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রথম ২৬ দিনের রিপোর্ট বলছে, এক কোটির বেশি মানুষ এসেছেন রাজ্যজুড়ে চলা শিবিরে। সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের শিবিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ আগস্ট তৃণমূলের ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির শিবিরগুলিতে বিধায়কদের যেতেই হবে। অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও নিজেদের মতো করে সময় বের করে যাবেন সেখানে। অভিষেক এখন যে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক পর্যালোচনা বৈঠক করছেন, সেখানেও উঠে আসছে এই সরকারি কর্মসূচির প্রসঙ্গ। অভিষেকের স্পষ্ট নির্দেশ, মন্ত্রী-বিধায়কদের দিনের আধ থেকে এক ঘন্টা সময় বের করে যেতেই হবে শিবিরগুলিতে। এরপরও কারা যাচ্ছেন না, তা এখন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের স্ক্যানারে। তাঁরা আগামী দিনে এই কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন বলেও খবর।