


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমতার বাসিন্দা এক যুবকের অঙ্গদানে নতুন জীবন পাচ্ছেন তিনজন। পিজি হাসপাতাল সূত্রের খবর, পুষ্কর পাল নামে বছর তেইশের ওই যুবকের কিডনি পাচ্ছেন দু’জন। অন্য একজন পাচ্ছেন তাঁর লিভার। তবে জাতীয় অঙ্গ ও কোষকলা প্রতিস্থাপন সংস্থায় (নোটো) নথিভুক্তিসহ বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও গ্রহীতা মেলেনি বলে দাতার ফুসফুস ও হার্ট কাজে লাগানো যায়নি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ মে বাড়ির সামনে এক পথ দুর্ঘটনা হয়। বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন পুষ্কর। একটি লরির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। রাস্তার পাশে পড়ে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে মাথায় গুরুতর চোট পান পুষ্কর। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় পিজি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে।
৩১ মে ওই যুবকের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপরই বাড়ির লোকজন সিদ্ধান্ত নেন, পুষ্করের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করবেন তাঁরা। গ্রহীতাদের শরীরে যেন তাঁদের বাড়ির ছেলেটি বেঁচে থাকেন। ১ জুন অঙ্গ উত্তোলন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিস্থাপনের কাজও শুরু হয়ে যায়।
কমান্ড হাসপাতালের ৫২ বছরের এক রোগিণী তাঁর একটি কিডনি পান। অন্যটি প্রতিস্থাপিত হয় পিজি’রই ৩৫ বছরের এক যুবকের শরীরে। পুষ্করের লিভার পাচ্ছেন অন্তিম পর্যায়ের লিভারের অসুখে আক্রান্ত পিজি’র এক রোগী। তাঁর বয়স ৪৭ বছর। পুষ্করের জেঠতুতো দাদা স্বদেশ পাল বলেন, ‘প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার সহজতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল অঙ্গদান। তাতে বহু মরণাপন্ন মানুষকে নতুন জীবনও দেওয়া যায়।’