প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে কোনা এলিভেটেড করিডরের কাজ। এখন পিলার তোলার কাজ চলছে। দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকে হাওড়ার নিবড়ায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সংযোগকারী ৬ লেনের এই উড়ালপুল তৈরি হলে কলকাতামুখী যানজটের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা করা হচ্ছে। তাই নবান্ন চাইছে, দ্রুত কাজ শেষ হোক। সেই জন্য বর্ষা নামার আগেই সব ক’টি পিলারের পাইলিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। কারণ, এই কাজ বর্ষার আগে শেষ না হলে, অন্তত তিন থেকে চার মাস পরবর্তী পর্যায়ের কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হবে না। বর্ষার আগে পাইলিং (জমি পর্যন্ত পিলারের কংক্রিটের ভিত) হয়ে গেলে মাটির উপরের কাজ করতে কোনও সমস্যা হবে না।
বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসেছিলেন ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) বা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সন্তোষ যাদব। বৃহস্পতিবার নবান্নে তিনি বৈঠক করেন মুখ্যসচিবের সঙ্গে। সেখানেই রাজ্যে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সেখানে রাজ্যের তরফে তিনটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কোনা এলিভেটেড করিডর ছাড়াও জাতীয় সড়ক ২ (নতুন নাম জাতীয় সড়ক ১৯) এবং জাতীয় সড়ক ৩৪-এর (নতুন নাম জাতীয় সড়ক ১২) সম্প্রসারণের কাজেও গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বারাসাত থেকে বড় জাগুলি পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ৩৪-এর চার লেন করার কাজ চলছে। আবার পালসিট থেকে ডানকুনি পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ২ চার থেকে ছয় লেন করা হচ্ছে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, তিনটি রাস্তাই কলকাতাগামী যানবাহন চলাচলের জন্য ভীষণ গুরত্বপূর্ণ। দুর্গাপুরের দিক থেকে কলকাতা আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল জাতীয় সড়ক ২। একইভাবে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের লাইফলাইন জাতীয় সড়ক ৩৪। অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক ১৬ বা জাতীয় সড়ক ১৯ ধরে কলকাতাগামী সমস্ত গাড়িই কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সাঁতরাগাছি হয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুকে ওঠে। ফলে সারাক্ষণই ব্যাপক চাপ থাকে এই রাস্তার উপর। বর্তমানে এলিভেটেড করিডরের কাজ চলার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তাই কাজের গতি বাড়িয়ে রাজ্যবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে চাইছে নবান্ন। সেই কারণেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে নবান্ন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে বলে খবর। এছাড়া, বেশ কিছু প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এনএইচএআই চেয়ারম্যান।