নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সড়ক থেকে সংসদ। আজ উত্তাল হবে দিল্লি। ইস্যু: ভোট চুরি। জাল, ডুপ্লিকেট ভোটার বাতিল করে নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার দাবিতে পথে নামছে মোদি বিরোধীরা। গত ২১ জুলাই থেকে লাগাতার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার দাবিতে সোচ্চার বিরোধীরা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে আলোচনা না করলে সংসদ চলতে দেবে না। আজও সংসদের দুই কক্ষে দেওয়া হবে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিস।
একইসঙ্গে হবে নির্বাচন সদন ঘেরাও কর্মসূচি। যা নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সংসদ চত্বরে বেলা ১১-৩০ নাগাদ জড়ো হবেন বিরোধী দলের সাংসদরা। শুরু হবে মিছিল। নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। সংসদ ভবন থেকে দুটি পথে যাওয়া যায় অশোক রোডে কমিশনের সদর দপ্তর। বিজয়চক হয়ে রফি মার্গ ধরে। অন্যটি সংসদ মার্গ হয়ে। যদিও দিল্লি পুলিস কোনওভাবেই বিরোধী সাংসদদের এগতে দেবে না। তাই রবিবার রাত থেকেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ঘেরা হয়েছে পথ। এসব জেনেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাক্ষাতের সময় চেয়েছে বিরোধীরা।
ভোট চুরির অভিযোগকে আন্দোলনের রূপ দিতে কংগ্রেস ওয়েব পোর্টাল এবং মোবাইলে মিসড কল অভিযান শুরু করেছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘ভোট চুরি হল এক ব্যক্তি এক ভোট ভাবনার উপর আঘাত। তাই গণতন্ত্র বাঁচাতেই আমাদের লড়াই।’ আজ বিকালে এআইসিসিতে রাহুল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করবেন। তৈরি হবে ভবিষ্যৎ স্ট্র্যাটেজি। পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে পাঁচতারা এক হোটেলে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের ডেকেছেন নৈশভোজে। সেখানে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েই কথা হতে পারে। নৈশভোজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক আসুন, চান খাড়্গে।
বিরোধীরা যত আগ্রাসী হচ্ছে, পাল্টা সক্রিয় হচ্ছে কমিশনও। রবিবারই তারা রাহুল গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়ে কর্ণাটকে ভোট চুরির লিখিত প্রমাণ দিতে বলেছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, হয় ক্ষমা চান, নয়তো প্রমাণ দিন। নথি জাল করার ‘অপরাধে’ কী শাস্তি, তাও কমিশন ‘কৌশলে’ মনে করিয়েছে। সেটা হল, নথি জাল করার অপরাধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যদিও রাহুলকে লেখা চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করেনি কমিশন। মিডিয়ার মাধ্যমে হুমকি জারি রেখেছে। সুপ্রিম কোর্টেও এসআইআর ইস্যুতে হম্বিতম্বি করেছে কমিশন। বলেছে, এসআইআর মামলায় ৬৫ লক্ষ বাতিলের নাম আবেদনকারীদের দেওয়ার কোনও আইন বা বিধি নেই। আগামী কাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কমিশন প্রবল চাপে। তাই হম্বিতম্বি করেও বিহারে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে খসড়ায় বাদ পড়া নাগরিকদের নামের তালিকা দিয়েছে কমিশন। সুর নরম করে জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম নেই মানেই ভোটাধিকার বাতিল নয়। অহেতুক কারও নাম বাদ যাবে না। ১ আগস্ট যে খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেটি শুধুমাত্র যাদের ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ হয়েছে, তাদের তালিকা। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নয়।



