Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬

বিরোধী বিক্ষোভে বাদল অধিবেশনের শেষ দিনও উত্তাল সংসদের উভয় কক্ষ, মোদিকে দেখেই স্লোগান— ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’

লোকসভায় প্রবেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুহূর্তে বিরোধী বেঞ্চ থেকে স্লোগান উঠল—‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়।’ এখানেই শেষ নয়।

বিরোধী বিক্ষোভে বাদল অধিবেশনের  শেষ দিনও উত্তাল সংসদের উভয় কক্ষ, মোদিকে দেখেই স্লোগান— ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় প্রবেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুহূর্তে বিরোধী বেঞ্চ থেকে স্লোগান উঠল—‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়।’ এখানেই শেষ নয়। সভা শেষে বিরোধীরা স্পিকারের ডাকা চা-চক্রও বয়কট করল। কারণ সেখানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাদল অধিবেশনের শেষদিনেও প্রতিবাদের ঝাঁঝ বিন্দুমাত্র কমাল না বিরোধীরা।

Advertisement

শুরুটা হয়েছিল সকাল ১১টা নাগাদ। সভা শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই তুমুল প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা। ফল? মুলতুবি। বেলা ১২টায় ফের বসল সভা। হবে অনির্দিষ্টকালের জন্য‌ মুলতুবি (সাইন-ডাই)। প্রথামাফিক ‘বন্দেমারতম’ সুরধ্বনি বাজানোর সময় প্রধানমন্ত্রীর হাজির থাকাই দস্তুর। সেইমতো এলেন নরেন্দ্র মোদি। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১২টা ৪ মিনিট। তাঁকে দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিরোধীরা। উঠল স্লোগান—‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়।’
এই বিক্ষোভের পুরোভাগে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়েলে নেমে ট্রেজারি বেঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি এসে স্লোগান দিলেন। বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মহুয়া মৈত্র, মিতালি বাগ, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পরে তাতে যোগ দিলেন কংগ্রেসের হিবি ইডেন, মহম্মদ জাভেদ, আর সুধার মতো সাংসদরা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, শশী থারুররা নিজেদের আসনে দাঁড়িয়ে সমর্থন জোগালেন। রীতিমতো অস্বস্তিতে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নীতিন গাদকারিরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিরুত্তাপ।
অধিবেশনের শেষ দিনেও বিরোধীদের এই বিক্ষোভে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। বললেন, আপনারা সংসদের মর্যাদা নষ্ট করছেন। ২১ জুলাই অধিবেশনের শুরুর দিন থেকে লাগাতার পরিকল্পনামাফিক সংসদের কাজকর্মে গতিরোধ করছেন। গত ২১ দিনে মাত্র ৫৫টি মৌখিক প্রশ্নোত্তর সম্ভব হয়েছে। অথচ হওয়ার ছিল ৪১৯। বিভিন্ন বিষয়ে ১২০ ঘণ্টা আলোচনার জন্য ধার্য হলেও হয়েছে মাত্র ৩৭ ঘণ্টা। মাত্র ১২টি বিল পাশ হয়েছে। যদিও স্পিকারের ভাষণ শুনতে রাজি হয়নি বিরোধীরা। তাদের স্লোগানের মধ্যেই তড়িঘড়ি বেলা ১২টা ১২ মিনিটে বেজে উঠল বন্দেমাতমের সুরধ্বনি। অনির্দিষ্টকালের জন্য লোকসভা মুলতুবি দিলেন স্পিকার। 
লোকসভার মতো রাজ্যসভাতেও এদিন সরকার বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় তৃণমূল। অমিত শাহর নাম না করে ‘তরিপার গো ব্যাক’ পোস্টার হাতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষরা। তুমুল হট্টগোলে বিলগুলি পেশ করে সংসদীয় যৌথ কমিটিতে পাঠানোর কথা জানিয়ে দেন অমিত শাহ। আলোচনা ছাড়াই অনলাইন গেমিং সংক্রান্ত বিল পাশ করালেন মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এদিকে তৃণমূল জানিয়েছে, সংবিধান সংশোধন বিলের যৌথ সংসদীয় কমিটিতে কাউকে পাঠানো হবে না। যে বিল পাশ হতে দেব না, সেটা নিয়ে আবার আলোচনা কীসের? তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, বিজেপির দাদাগিরি কোনওভাবেই মানব না।  

সম্পর্কিত সংবাদ