Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬

এনডিএর বৈঠক-ভোজেই সন্তুষ্ট থাকার বার্তা, কাকলিদের দলে টানতে নারাজ বিজেপি

বৈঠকে যোগদান পর্যন্তই ঠিক আছে। এনডিএতে এসেছেন। সমর্থন নেব। ভালো কথা। কিন্তু বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সাহায্য পাবেন না।

এনডিএর বৈঠক-ভোজেই সন্তুষ্ট থাকার বার্তা, কাকলিদের দলে টানতে নারাজ বিজেপি
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার ও দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বৈঠকে যোগদান পর্যন্তই ঠিক আছে। এনডিএতে এসেছেন। সমর্থন নেব। ভালো কথা। কিন্তু বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সাহায্য পাবেন না। স্থানীয় স্তরে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। তাই বিজেপিতে সরাসরি যোগদান করানো সম্ভবই নয়। এটা করলেই দলের মধ্যে জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই বার্তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। ‘দলবদলু’ তৃণমূল এমপিদের জন্য। যাঁদের পোশাকি নাম এনসিপিআই হলেও সংসদের খাতায়-কলমে তৃণমূলই পরিচয়। এমন এক বার্তায় ঘোর বিপদে পড়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষদস্তিদার শিবির। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের কার্যত এনডিএর বৈঠক-ভোজেই সন্তুষ্ট থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে। দলে টানার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নারাজ বিজেপি। 

Advertisement

রাজ্য বিজেপির অন্দরের খবর, এনডিএর বৈঠকে যোগদানের বাইরে আর কোনো ‘লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট’ তৃণমূলের ওই বিদ্রোহী সাংসদদের যে দেওয়া হবে না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নেতাদের বারবার বলা হয়েছে, নিজেদের এলাকায় বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা যেভাবে ক্ষোভ-অসন্তোষের মুখে পড়ছেন, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করানো যাবে না। তাহলে যাবতীয় রোষ বঙ্গ নেতৃত্বের উপর আছড়ে পড়বে। বাংলায় সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপির ভাবমূর্তি তাতে মোটেও উজ্জ্বল হবে না। পাশাপাশি বিজেপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশই বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। জানা যাচ্ছে, বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো আশ্বাস পাননি। উপরন্তু দু’মাস ধরে দরবার করেও সংসদে এখনও স্বীকৃতি মেলেনি সুদীপ-কাকলিদের এনসিপিআইয়ের। 
আজ, বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। নিজেদের এনডিএ শরিক বলে দাবি করলেও পুরো অধিবেশনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায় সহ ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের ভূমিকা ছিল ফ্যাকাশে। না সরকারের কোনো বিল পাশে সমর্থন, না বিরোধিতা। শুধু লোকসভায় প্রশ্নফাঁসে শাস্তি বৃদ্ধির বিলে অংশ নিয়েছিলেন শর্মিলা সরকার। যদিও তাঁর পরিচয় ছিল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। এনসিপিআই নয়। ফলে এই ‘এনসিপিআই সদস্যদের’ মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা কমছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখে যতই বলুন, আমাদের সঙ্গে থাকলে কোনো চিন্তা নেই, ‘বিদ্রোহী’দের তাতে দুশ্চিন্তা কমছে না। এমন পরিস্থিতিতেই আবার বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে গিয়ে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এসেছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে ‘গদ্দার’ তকমা দিয়েছে তৃণমূল। তাই স্পিকারের কাছে জুন মাসেই ২০ জনের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে রীতিমতো স্ট্যাম্প পেপারে পিটিশন দাখিল করেছিলেন অভিষেক। দু’মাস পরেও তার নিষ্পত্তি না হওয়ায় এদিন তিনি ফের বিড়লার কাছে যান। সঙ্গে ছিলেন সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডল। স্পিকারকে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘হয় আমাদের আবেদন মেনে ২০ জনের সদস্যপদ খারিজ করুন। নয় তো এনসিপিআইকে স্বীকৃতি দিন। আর সেই স্বীকৃতি দিলেই আমরা হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্ট যাব।’ যদিও স্পিকার ‘দেখছি কী করা যায়’ বলে বিষয়টি অস্পষ্টই রেখেছেন। পরে অভিষেক বলেন, ‘আরও কিছুদিন দেখব। কোনো নিষ্পত্তি না হলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ