Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

অপারেশন সিন্দুর: ফের পাকিস্তানকে খোঁচা সেনাপ্রধানের, টানলেন দাবা খেলার প্রসঙ্গও

অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানের ছ’টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ভারত। শনিবারই একথা জানিয়েছিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং।

অপারেশন সিন্দুর: ফের পাকিস্তানকে খোঁচা সেনাপ্রধানের, টানলেন দাবা খেলার প্রসঙ্গও
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০৫

নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানের ছ’টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ভারত। শনিবারই একথা জানিয়েছিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীও। রবিবার আইআইটি মাদ্রাজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, অপারেশন সিন্দুর ছিল প্রচলিত অভিযানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আগাম কোনও আন্দাজ সম্ভব ছিল না। গোটা পরিস্থিতিকে বোঝানোর জন্য দাবা খেলার প্রসঙ্গ টানেন তিনি। 

Advertisement

এদিন অপারেশনের নানা দিক উঠে এসেছে  জেনারেল দ্বিবেদীর বক্তব্যে। তিনি জানান, কখনও আমরা শত্রুপক্ষকে দাবা খেলায় হারিয়েছি। কখনও আবার জীবন বাজি রেখে হামলা চালাতে হয়েছে। পাকিস্তানকেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি সেনাপ্রধান। তিনি জানান, পাকিস্তান গুরুত্ব দিয়েছিল স্ট্যাট্রেজিক ন্যারেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে। অর্থাৎ মনগড়া দাবিকেই সত্যি বলে প্রচার করা। তাঁর কটাক্ষ,  ভারতের সফল অভিযানের পরও পাকিস্তান নিজেকে জয়ী বলে দাবি করেছে। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল করা ওদের ওই কৌশলেরই অঙ্গ। 
অভিযান পরিকল্পনার খুঁটিনাটি জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘২৩ এপ্রিল আমরা একসঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। এই প্রথমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, অনেক হয়েছে। আর বরদাস্ত নয়। তারপরই তিন বাহিনীর প্রধান ঠিক করেন, এবার যথাযথ জবাব দিতেই হবে। সেইমতো স্বাধীনভাবে বাহিনী রণনীতি তৈরি করে। তার ভিত্তিতে ৯ মে আঘাত হানা হয় একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটিতে। তাতে বহু জঙ্গি মৃত্যু হয়েছে।’ সেনাপ্রধানের দাবি, এবারের মতো আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও  স্বচ্ছতা আগে কখনও দেখা যায়নি। অভিযানের নাম কেন অপারেশন সিন্দুর রাখা হল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, এই নামকরণ দেশকে এক সূত্রে বাঁধতে সাহায্য করেছিল।  
এরমধ্যে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে। তাতে জানা গিয়েছে, অপারেশন সিন্দুরের সময় করাচি বন্দরে হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকে নয়াদিল্লি। তাই অপারেশনের পরের দিন নৌসেনা প্রধানকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর,  ৯ মে রাতের সফল অপারেশনের জন্য পরদিন সকালে বাহিনীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। জেনারেল দ্বিবেদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নৌসেনা প্রধান  অ্যাডমিরাল দীনেশকুমার ত্রিপাঠীর দিকে তাকান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বলেন, ‘আপনার মুখের গ্রাস কেড়ে নিলাম। চিন্তা নেই। আপনারও সময় আসবে।’ উল্লেখ্য, অপারেশনের সময় করাচি বন্দর লক্ষ্য করে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রেখেছিল নৌসেনা। ভারত ওই পোর্টকে নিশানা করলে পাকিস্তান গুজরাতে হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল। তাতে পিছু হটেনি নয়াদিল্লি। তিন বাহিনীকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তা সত্ত্বেও ভারত সংযম দেখানোয় অক্ষত থাকে করাচি বন্দর। - ফাইল চিত্র 

সম্পর্কিত সংবাদ