নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় মোদি। কিন্তু রাজ্যসভায় অমিত শাহ। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে অপারেশন সিন্দুর নিয়ে লোকসভায় আলোচনা শুরু হয়েছিল সোমবার। মঙ্গলবার তার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল রাজ্যসভায়। বুধবার সেই আলোচনার জবাব অবশ্য নরেন্দ্র মোদি দিলেন না। কার্যত প্রধানমন্ত্রীর সম্মানেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনার জবাব দেওয়ালো কেন্দ্রের শাসক দল। আর এহেন ঘটনাক্রমেই আবারও নরেন্দ্র মোদির অবসর নিয়ে জল্পনা উস্কে উঠল। কারণ একটি বিষয়ের উপর আলোচনার জবাব লোকসভায় দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ রাজ্যসভায় সেই জবাব দিচ্ছেন অন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, তা একপ্রকার নজিরবিহীন।
বুধবার অমিত শাহ আলোচনার জবাব দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেই অবশ্য তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই জবাব দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন তারা। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, সংসদের একটি কক্ষে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, অন্য কক্ষে নয়, তা কেন হবে? তাছাড়া বহু প্রশ্নই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত। সংসদে থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যসভায় না এসে আদতে সদনকেই অপমান করছেন। কংগ্রেস সাংসদের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, আলোচনার জবাব কে দেবে, তা দলীয় ব্যাপার। কটাক্ষ করে বলেন, মেরে সে নিপট লো। পিএম আ গ্যায়ে তো আউর তকলিফ হোগি। প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়েলের কাছাকাছি চলে আসেন বিরোধী দলের এমপিরা। নরেন্দ্র মোদি রাজ্যসভায় না আসায় একযোগে ওয়াকআউট করে বিরোধীরা। আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহ বলেন, দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা কংগ্রেসের অগ্রাধিকার নয়। তোষণের রাজনীতি এবং ভোটব্যাঙ্ক সর্বাগ্রে রাখে কংগ্রেস। তাদের তোষণের রাজনীতির কারণেই দেশে সন্ত্রাসবাদীদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল। অথচ তারা কিছুই করেনি। পাকিস্তানকে কোনও কড়া জবাবও দেয়নি। মোদি সরকারের আমলে কাশ্মীর বাদে দেশের অন্যত্র সন্ত্রাস নেই। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ফলে কাশ্মীরের পরিস্থিতিও ক্রমশ উন্নত হচ্ছে।
অমিত শাহের ঘোষণা, কারও মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। অপারেশন সিন্দুর কোনও যুদ্ধও ছিল না। আত্মরক্ষার জন্য বলপ্রয়োগের অধিকার মেনেছে ভারত। পাকিস্তান আর্জি জানিয়ে বলেছে, তারা কোনও সংঘর্ষ চায় না। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিজেপিকে কোনও প্রশ্ন করার অধিকার কংগ্রেসের নেই। পাক অধিকৃত কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওরা ‘পিওকে’ দিয়ে দিয়েছে। বিজেপি আবারও তা দখল করবে। বিদেশমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—অপারেশন সিন্দুরের উপর আলোচনায় বারবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। এদিন আলোচনায় অংশ নিয়ে তাই আরজেডির রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝায়ের কটাক্ষ, আপনারা এক কাজ করুন। নেহরুর বিরুদ্ধে মামলা করুন। তারপর বলুন, জওহরলাল নেহরু হাজির হো।