নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোনার দোকানে ডাকাতি ও মালিককে খুনের দু’দিনের মধ্যেই বড় ‘ব্রেক-থ্রু’ পেল বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। বরানগরের ওই ঘটনায় সঞ্জয় মাইতি এবং সুরজিৎ শিকদার নামে দু’জনকে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সঞ্জয়ই এই ডাকাতি ও খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী। সুরজিৎ ছিল তার সহযোগী। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি বিহারের এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীর পরামর্শেই এই অপারেশনে নেমেছিল তারা। দমদমের বেদিয়াপাড়া এলাকার একটি আবাসনের বাসিন্দা সঞ্জয়। ঘটনাস্থল থেকে মিনিট দশেক দূরে অবস্থিত আবাসনটি। সুরজিতের বাড়ি নারকেলডাঙা থানা এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে লুট হওয়া সোনার কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে। তাদের সোমবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় বিহারের আরও তিন দুষ্কৃতী যুক্ত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাদের খোঁজে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জেনেছে, ২০২৪ সালে এক অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল সঞ্জয়কে। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মাস তিনেক বন্দি ছিল সে। সেই সময় বিহারের জামুইয়ের কুখ্যাত অপরাধী রাকেশ দাসও ওই সংশোধনাগারে ছিল। ২০২২ সালে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় এক খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। সংশোধনাগারে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। রাকেশকে ‘গুরু’ মানতে শুরু করে সঞ্জয়। রাকেশ তাকে বলেছিল, ‘পেটি কেস করে লাভ নেই। এমন কাজ করবি, যাতে সারা জীবন আয়েশ করতে পারিস।’ জেল থেকে বেরিয়ে ‘গুরু’র পরামর্শ মতো বড় কিছু করার পরিকল্পনা করছিল সঞ্জয়। বাড়ির অদূরে বরানগর ও সিঁথি এলাকার সোনাপট্টি। সে জানতে পারে, শম্ভুনাথ দাস লেনের সোনাপট্টি দুপুরে শুনশান হয়ে যায়। একমাত্র শংকর জানার দোকানে কোলাপসিবল গেট খোলা থাকে। কাচের দরজা বন্ধ করে কেউ না কেউ থাকেন ভিতরে। এমনকি, পুজোর সময় শংকরবাবু যে একাই দোকানে থাকছেন, তাও জেনে নিয়েছিল সঞ্জয়। এরপর প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে থাকা রাকেশের সঙ্গে সে যোগাযোগ করে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। রাকেশ যোগাযোগ করে বিহার থেকে তিনজন দুষ্কৃতীকে সঞ্জয়ের কাছে পাঠায়। সঞ্জয় নিজেও তিনজনকে জোগাড় করে। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ওই এলাকা ও রাস্তাঘাট ভালোভাবে রেকি করে তারা।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন সঞ্জয় সোনার দোকানের কিছুটা দূরে সুরজিতের বাইকের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সুরজিৎ পকেটে এক লক্ষ টাকা নিয়ে ক্রেতা সেজে অপর এক দুষ্কৃতীর সঙ্গে দোকানে ঢোকে। কিছু সময় পরে সেখানে ঢোকে বাকি দুষ্কৃতীরা। শংকরবাবুর চোখে লংকার গুঁড়ো ছিটিয়ে দ্রুত দোকানের সমস্ত লাইট বন্ধ করে দেয় তারা। সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে দেয়। শংকরবাবুকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। তখন সোনার গয়না তৈরির লোহার দণ্ড দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। এরপর সাড়ে ১৫ কেজির বেশি সোনা লুট করে চম্পট দেয় তারা। বেদিয়াপাড়া লাগোয়া ৩০এ বাসস্ট্যান্ডে তারা সবাই দেখা করে এবং বিভিন্ন দিকে পালায়। বিহারের দুষ্কৃতীরা ট্রেন ধরে বেরিয়ে যায়। সঞ্জয় সল্টলেকে ও সুরজিৎ নারকেলডাঙা এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল। পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ‘বরানগরে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’