নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বর্ষার সময় মাছের বাজার ছেয়ে যায় ইলিশে। ভোজন রসিক বাঙালির কাছে এটা ইলিশ পার্বণের সময়। দুর্গাপুজোর সময় রুপোলি শস্যের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তবে পুজোর দিনে বাঙালির পাতে বড় ইলিশের টুকরো পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ গত দু’ সপ্তাহ ধরে নামখানা বন্দর ও বাজারে ক্রেট ভরে ভরে যা ইলিশ এসেছে, সবই খোকা। আসলে গভীর সমুদ্রে না গিয়ে অগভীর অংশে বা মোহানায় জাল ফেলে যা পাচ্ছেন, তাই গুটিয়ে আনছেন মৎস্যজীবীরা। যে কারণে বড় ইলিশের দেখা মিলছে না সেভাবে।
মৎস্যজীবীদের কথায়, বর্ষাতেই ইলিশ ধরার অনুকূল পরিবেশ থাকে। তবে দুর্যোগের জেরে এই সময় নদী ও সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ থাকায় ট্রলারগুলি গভীর জলে যেতে পারছে না। আবার কোনও কোনও ট্রলার গেলেও বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারছে না। কারণ বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অগভীর জলে গিয়েই জাল ফেলছেন মৎস্যজীবীরা। এতে আর যাই হোক, বড় ইলিশ ধরা পড়ছে না। জালে যা উঠছে, সেগুলি ১০০-১৫০ গ্রামের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৩০০-৩৫০ গ্রামের মাছও উঠছে। এসবই খোকা ইলিশ। এই মাছই বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে সাড়ে ৪৫০ টাকায়। যেহেতু খোকা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, সেকারণে মৎস্যজীবীদের একাংশ ক্রেটের নীচের দিকে ছোট মাছগুলিকে রেখে উপরে বড় মাছ দিয়ে ঢেকে পাঠিয়ে দিচ্ছে ডায়মন্ডহারবার ও অন্যান্য বাজারে। পাছে নজরদারির সময় কেউ ধরতে না পারে।
সমুদ্রে ঢেউয়ের দাপট থাকলেও বড় ইলিশের ঝাঁক রয়েছে সেখানে। কিন্তু মৎস্যজীবীরা তত পর্যন্ত যেতে পারছেন না ট্রলার নিয়ে। অগভীর সমুদ্রই এখন তাঁদের ভরসার জায়গা হয়েছে। এই হারে খোকা ইলিশ ধরা পড়লে আগামী দিনে বড় মাছ পাওয়া যাবে কি না, সন্দেহ। তবে এখনও দু’-তিন মাস সময় রয়েছে ইলিশ ধরার। এই পর্বে যদি বড় ইলিশ জালে ওঠে, তবেই দুর্গাপুজোর মুখে আশা পূরণ হবে ভোজন রসিক বাঙালির। এই সময়ে মাছ ব্যবসায়ীরা অনেকেই বড় মাছ তুলে স্টক করেন পুজোর বাজারে ছাড়বেন বলে। তাঁরাও আড়তে সেভাবে বড় ইলিশ না পাওয়ায় ধন্দের মধ্যে রয়েছেন।
কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, মরশুমের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। প্রথম দিকে ভালো সাইজের ইলিশ উঠছিল জালে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করায় বড় মাছের জোগানে টান পড়েছে। এভাবে খোকা ইলিশ ধরলে আখেরে মৎস্যজীবীদেরই ক্ষতি হবে। পুজোর আগে বাজারে বড় মাছের আকাল দেখা দিতে পারে। প্রশাসনের উচিত, যে বা যারা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।