Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরের কাজে অসংগতিতে ‘বলি’ শুধু রাজ্যের অফিসাররাই! আইএএস আমলাদের আগলাচ্ছে কমিশন

স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। এবার সেই অসন্তোষের আঁচ এসে পড়ল রাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের আমলা মহলে।

এসআইআরের কাজে অসংগতিতে ‘বলি’ শুধু রাজ্যের অফিসাররাই! আইএএস আমলাদের আগলাচ্ছে কমিশন
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। এবার সেই অসন্তোষের আঁচ এসে পড়ল রাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের আমলা মহলে। জেলাওয়াড়ি এসআইআরের কাজে সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক (ডিইও)। পদাধিকার বলে তিনি জেলাশাসক। তাঁরা মূলত ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) ক্যাডারের অফিসার। তাঁদেরই অধীনে রয়েছেন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অতিরিক্ত ইআরও (এইআরও)। এঁরা মূলত ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (ডব্লুবিসিএস), রেভিনিউ সার্ভিস, এগ্রিকালচার সার্ভিস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এসআইআরের কাজে গাফিলতির অভিযোগে এখনও পর্যন্ত প্রায় এক ডজন ইআরও-এইআরও সাসপেন্ড হয়েছে। আমলাদের একাংশের প্রশ্ন, এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের মাথায় বসা আইএএস অফিসারদের কোনো দায় নেই? কেন তাঁদের ন্যূনতম শো-কজও করা হবে না?

Advertisement

ওই মহলের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে বুধবার এক আইএএস অফিসারের কীর্তি ফাঁস করেছেন। নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত রোল অবজার্ভার পদে থাকা ওই অফিসার মোবাইলে ‘অবৈধ’ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে তিনি মাইক্রো অবজার্ভারদের বলেছেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের দেওয়া জন্মের শংসাপত্রকে গ্রহণ করা যাবে না। এসআইআর পর্বে শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ। রাজ্যের লাখ লাখ মানুষ ভোটার তালিকায় প্রধানের দেওয়া ওই নথি ইতিমধ্যে জমা করেছেন। নয়া ফতোয়ায় ওই বিরাট অংশের ভোটার বাদ পড়তে পারেন। যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানই ‘সাব রেজিস্ট্রারস অব বার্থ অ্যান্ড ডেথ’ হিসাবে স্বীকৃত। ১৯৯৭ সালের ১৯ মে স্বাস্থ্যদপ্তর এবং ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে প্রধানদের দায়িত্ব সংক্রান্ত এই আদেশনামা জারি হয়েছিল। সেই সূত্রে, সংশ্লিষ্ট ওই আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না নির্বাচন কমিশন? উঠছে সেই প্রশ্ন। বিভিন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারী-আধিকারিক সংগঠনের নেতা-সদস্যদের অভিযোগ, কমিশন বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। এক্ষেত্রে আইএএস অফিসারদের আগলে রাখছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে রয়েছেন। সংগঠনের সম্পাদক পদে রয়েছেন স্মিতা পান্ডে। তাঁকে কমিশন রোল অবজার্ভার হিসাবে নিযুক্ত করেছে। সব মিলিয়ে আইএএস’দের ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে অন্য ক্যাডারের অফিসারদের মধ্যে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ