


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বেলঘরিয়ায় গুলি কাণ্ডে পুলিস বিক্কি যাদব নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইন্দাল যাদব এখনও অধরা। বেলঘরিয়া থানার পুলিস জানিয়েছে, তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ইন্দাল কামারহাটির কোনও নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে বেলঘরিয়া উত্তর বাসুদেবপুর এলাকার নেতা বিকাশ সিং গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বাড়ির কাছের একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। তিনি স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার নির্মলা রাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এছাড়া টেক্সম্যাকো কারখানার আইএনটিটিইউসি নেতা। ওইদিন একটি বাইকে চড়ে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর পেটে গুলি লাগে। ওই জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন সন্তু দাস নামের এক যুবক। একটি গুলি ওই যুবকের কোমর ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। দুষ্কৃতীরা পালানোর সময় রাস্তায় তাঁদের বাইক ফেলে চম্পট দেয়। ওই সূত্র ধরে পুলিস তদন্তে নামে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এলাকার তৃণমূল কর্মী ইন্দাল যাদব আরও দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিকাশ সিংকে নিকেশ করার ছক কষেই এই হামলা চালানো হয়। মহিলা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা বলে পুলিস জেনেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিকাশ ও তার দলবল ইন্দালকে ব্যাপক মারধর করেছিল। তারপর থেকে সে এলাকা ছেড়ে নিউটাউনে থাকছিল। ঘটনার দিন সে এলাকায় ঢুকেছিল বিক্কি নামের এক বন্ধুর জন্মদিনে। এরপর সেখান থেকে বিক্কির বাইকে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিকাশের উপর হামলা চালাতে এসেছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিকাশের উপর হামলার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। ওই সময় সে চায়ের দোকানে আছে জানার পরই হামলা চালাতে এসেছিল।
তবে এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় দুষ্কৃতীদের উৎপাত বেড়ে গিয়েছে। তাদের হাতে হাতে ঘুরছে অস্ত্র। বখরা নিয়ে, এলাকার দখল নিয়ে তাদের রেষারেষিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ওইদিন বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন সন্তু দাস। দুষ্কৃতীরাজ বন্ধ করতে অবিলম্বে পুলিসের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (দক্ষিণ) অনুপম সিং বলেন, বিক্কির নাম এফআইআরে ছিল। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। ইন্দাল সহ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।