Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাছের জোগানে স্বনির্ভরতার পথে, বাংলার  পোনা যাচ্ছে ভিন রাজ্যে, দাবি মৎস্যমন্ত্রীর

বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে মুরগিসহ অন্যান্য মাংস পাঠানো শুরু হয়েছিল আগেই। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মাছও। ওড়িশা, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে এরাজ্য থেকে পাড়ি দিচ্ছে পোনা মাছ।

মাছের জোগানে স্বনির্ভরতার পথে, বাংলার  পোনা যাচ্ছে ভিন রাজ্যে, দাবি মৎস্যমন্ত্রীর
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে মুরগিসহ অন্যান্য মাংস পাঠানো শুরু হয়েছিল আগেই। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মাছও। ওড়িশা, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে এরাজ্য থেকে পাড়ি দিচ্ছে পোনা মাছ। বৃহস্পতিবার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী। এদিন তিনি বলেন, বাংলায় মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই শুধু আমাদের লক্ষ্য নয়, সাধারণ মানুষের পাতে কম দামে ভালো মাছ তুলে দেওয়াটাও আমাদের টার্গেট। একটা সময় ছিল, যখন দক্ষিণ ভারত থেকে ট্রাকে করে মাছ ঢুকত বাংলার বাজারে। সেই ট্রাকের সংখ্যা এখন অনেকটাই কমেছে। তার অন্যতম কারণ, বাংলার নিজস্ব উৎপাদিত মাছের জোগান স্থানীয় বাজারে অনেকটাই বেড়েছে। মন্ত্রীর দাবি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে ১.৬২ লক্ষ টন মাছ পাঠানো হয়েছিল। তা গত অর্থবর্ষে বেড়ে ১.৭৮ লক্ষ টন হয়েছে। 

Advertisement

এদিন বিপ্লববাবু জানিয়েছেন, প্রায় হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়াতে তাঁরা ‘অভয়পুকুর’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। সেখানে ৩৩ প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে। ট্যাংরা, মৌরলা, পুঁটির মতো মাছের চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে সেখানে। তার পাশাপাশি রুই, কাতলা বা মৃগেলের মতো মাছ যাতে বড় আকারে, অর্থাৎ অন্তত দেড় কিলো ওজনে বাজারে পাওয়া যায়, তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছচাষের জন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে মাছচাষিদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন প্রজন্মের উদ্যোগপতিরাও প্রশক্ষিণ নিয়েছেন এবং মাছ উৎপাদন শুরু করেছেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত এলাকায় কোথায় কত পুকুর আছে, তারও শুমারি করা হচ্ছে। এর ফলে কোন পুকুরে মাছচাষ হয়, কোথায় হয় না, তার তথ্য পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে যেখানে চাষ হয় না, সেখানে মাচচাষের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। 
মন্ত্রীর দাবি, শিঙি, মাগুরের মতো মাছের চাষে গুরুত্ব বাড়াচ্ছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, এই ধরনের দেশি মাছগুলি বাজারে পাওয়া যায় না বললেই চলে। যেটুকু মেলে, তার দর কেজি প্রতি ৮০০ টাকার নীচে নয়। আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, তাতে একবছরের মধ্যেই মাছের জোগান অনেকটা বাড়বে। তাতে দেশি শিঙির মতো মাছের দাম চার-সাড়ে চারোশো টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ