Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিউটি অফিসারের চেয়ার দখল, আঁচড় পুলিসকে

কখনও থানা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। ধরতে গেলেই ‘কিল-ঘুষি’ খেতে হচ্ছে পুলিস কর্মীদের। কখনও আবার থানার ভিতরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজের খেয়ালে।

ডিউটি অফিসারের চেয়ার দখল, আঁচড় পুলিসকে
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কখনও থানা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। ধরতে গেলেই ‘কিল-ঘুষি’ খেতে হচ্ছে পুলিস কর্মীদের। কখনও আবার থানার ভিতরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজের খেয়ালে। বসতে বললেই ফের আক্রমণ! ‘আমাকে নিয়ে এসেছেন কেন’, বলেই বসে পড়লেন ডিউটি অফিসারের চেয়ারে! তাঁকে সামাল দিতে প্রায় থানার ৫-৬ জন পুলিসকর্মী আঁচড়ও খেয়েছেন। কিন্তু, ধৈর্য হারাননি কেউই। শত তাণ্ডব সহ্য করেও মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে বাড়িতে ফেরাল এয়ারপোর্ট থানার পুলিস। তবে, পরিবারের সদস্যদের দেখে শান্ত হন তরুণী। মুখে তাঁর হাসি ফুটে ওঠে। থানার পুলিসকর্মীরাও হাসিমুখে বিদায় জানালেন তাঁকে।

Advertisement

শনিবার ভোররাত। এয়ারপোর্ট থানার পুলিসকর্মীরা টহল দিচ্ছিলেন রাস্তায়। যশোর রোড ধরে তাঁরা যখন মাইকেল নগরের দিকে এগচ্ছিলেন, তখন বিটি কলেজ মোড়ের কাছে ওই তরুণীকে দেখতে পান তাঁরা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি দোকানের পাশে তিনি তখন ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁকে দেখে সন্দেহ হয়। পুলিসের জিপে একজন মহিলা কনস্টেবল ছিলেন। তিনিই ওই তরুণীকে ঘুম থেকে তোলেন। নাম ও ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি দৌড়ে পালাতে থাকেন। ওই মহিলা কনস্টেবল পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন। কিন্তু, গাড়িতে তুলতে পারেননি। কারণ, তরুণী তখন কিল-ঘুষি মারছেন। ছেড়ে দিলে পালিয়ে যেতে পারে, তাই মার খেয়েও তিনি তাঁকে ধরে রেখেছিলেন।
খবর দেওয়া হয় থানায়। সেখান থেকে আরও একজন মহিলা কনস্টেবল আসেন ঘটনাস্থলে। তারপর দু’জনে মিলে তাঁকে গাড়িতে তোলেন। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তাঁকে জল ও খাবার দেওয়া হয়। তরুণী কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকেন। তখন এয়ারপোর্টের আইসি সলিল কুমার মণ্ডল তাঁর নাম ও বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন। তাঁর কাছে একটি ব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগ থেকে আধার কার্ড পাওয়া যায়। ঠিকানা দেখা যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী। সলিলবাবু ভোররাতেই পূর্বস্থলী থানায় যোগাযোগ করেন। তারপরই জানতে পারেন, দিন পাঁচেক আগে ওই তরুণী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা পূর্বস্থলী থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করেছেন। বাড়ির নম্বর নিয়ে আইসি সলিলবাবু ভোরেই তাঁর বাড়িতে ফোন করেন। জানতে পারেন, ৫ বছর ধরে তাঁর চিকিৎসাও চলছে। ফোন পেয়েই পরিবারের সদস্যরা রওনা দেন। শনিবারই তাঁরা এয়ারপোর্ট থানায় আসেন। নথিপত্র খতিয়ে দেখে পুলিস পরিবারের হাতে তাঁকে তুলে দেন।
জানা গিয়েছে, খাওয়ার পর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেও তারপরই দাপাদাপি শুরু করেছিলেন তরুণী। পরিবারের সদস্যরা আসার পর তাঁকে হস্তান্তর করার ছবি তুলতে যায় পুলিস। তখন এক দৌড়ে ফের তিনি ডিউটি অফিসারের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েন। অনেক বুঝিয়ে চেয়ার থেকে তোলা হয় তাঁকে। তারপর চারজন মিলে ধরে তোলা হল ছবিও! একগাল হেসে টা টা করলেন তিনি। হাসিমুখে হাত নাড়লেন পুলিসকর্মীরাও!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ