নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াইয়ের তীব্রতা কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, মঙ্গলবার তৃণমূলের মহামিছিলে তার ঝলক দেখল মহানগর। আগামী দু’মাসের মধ্যে যার মূল পর্ব আয়োজিত হবে দেশের রাজধানী দিল্লির বুকে। দেশ দেখবে বাংলার ক্ষমতা। রাজ্যে এসআইআর আবহে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মূল নির্যাস এটাই।
বিজেপিকে ‘বাংলাবিরোধী’ তকমা আগেই সেঁটে দিয়েছে তৃণমূল। একাধিক প্রকল্প খাতে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপর অত্যাচার, হেনস্তার ঘটনা সামনে এসেছে। এই আবহে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর। ভোটার তালিকায় ঝাড়াই-বাছাইয়ের নামে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামে জোড়াফুল শিবির। কলকাতার রেড রোডে বি আর আম্বেদকরের মূর্তি থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত মিছিলে পা মেলান লক্ষাধিক তৃণমূল কর্মী। সংবিধান প্রণেতা অম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পদযাত্রায় অংশ নেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দু’ধারে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের পাশে থাকার জন্য তাঁদের হাতজোড় করে নমস্কার করেন অভিষেক। জোড়াসাঁকোয় যেখানে মিছিল শেষ হয়, সেখানে তৃণমূলের তরফে করা হয়েছিল একটি শহিদ বেদি। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর আতঙ্কে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এখনও পর্যন্ত সাতজন আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক। পরে সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে অভিষেক বলেন, ‘আমরা সাত জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু এটাও স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, দিল্লির কাছে বশ্যতা স্বীকার করব না। মাত্র দু’দিনের প্রস্তুতিতে যদি আমরা এত মানুষকে নিয়ে মিছিল করতে পারি, তাহলে ভাবুন, দু’মাসের ব্যবধানে দিল্লিতে আমরা কী করতে পারি। দিল্লি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। জনগর্জন কাকে বলে, সেটা দিল্লি থেকে জানান দেওয়া হবে।’
এর আগে ১০০ দিনের কাজের প্রাপ্য আদায়ের দাবিতে দিল্লি অভিযান করেছিলেন অভিষেক। সেই সময় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড হোল্ডাররা। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে রাজ্যবাসীকে নিয়েই তিনি দিল্লি অভিযান করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘মতুয়া, রাজবংশী, সংখ্যালঘু সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম কাটতে পারবে না বিজেপি। তার আগে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে যেত হবে।’ ইতিমধ্যে বনগাঁ সহ বিভিন্ন জায়গায় সিএএ ক্যাম্প করে বিজেপি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অভিষেকের আহ্বান, ‘কোনও প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে বিজেপির সিএএ ক্যাম্পে যাবেন না। তাহলে আপনার নাম কেটে যাবে। আপনার ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে তৃণমূল পাশে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই নয়। এটা বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনার লড়াই। তাহলে ওরা আর বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করার সাহস পাবে না।’