Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘এখন হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে, কাছে গেলেই ইরানের গুলির ভয়’, পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২০০ জাহাজ আটকে

আবার ফিরে এল ৭-৮ বছর আগেকার হরমুজের দিনগুলি। ক’দিন আগে দুবাইয়ে নতুন জাহাজের দায়িত্ব পেয়ে দুরুদুর বুকেই ছুটলাম।

‘এখন হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল  দূরে, কাছে গেলেই ইরানের গুলির ভয়’, পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২০০ জাহাজ আটকে
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্রনীল রায়, (আটকে পড়া জাহাজের ফার্স্ট অফিসার): আবার ফিরে এল ৭-৮ বছর আগেকার হরমুজের দিনগুলি। ক’দিন আগে দুবাইয়ে নতুন জাহাজের দায়িত্ব পেয়ে দুরুদুর বুকেই ছুটলাম। বড়সড় ফারাক হল, আগের দিনগুলিতে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজে ঢুকতে বা বেরতে অনুমতি লাগত না। এখন পুরোপুরি ডেড লক করে রেখেছে ইরান। অন্যদিকে ওমান উপসাগরে কাছে মার্কিন অবরোধ।  ইরান মাঝে একদিনের জন্য হরমুজ খুলেছে-ভেসেল ট্রাফিক সিস্টেমে এই বার্তা পেয়ে দুটো ভারতীয় জাহাজ এগতেই গুলি খাওয়ার খবর আমাদের কাছে এসেছে। এখন আর কার বুকের পাটা আছে এগনোর! হরমুজে ঢেউ উঠতেও মনে হয় ইরানের অনুমতি লাগবে। এর মধ্যে আবার ইরানের জাহাজে গুলি চালিয়েছে আমেরিকা। সুতরাং হরমুজে ধারেকাছে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।    

Advertisement

গতকাল ছিলাম হরমুজ থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে। আজ আরও কিছুটা পিছিয়ে অনেকটা নিরাপদ দূরত্বে—৬০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে আছি। ইরান আর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মাঝখানে, পারস্য উপসাগরে। আমাদের ডিসপ্লে বোর্ডে ভেসে উঠছে কালো কালো স্পট। সব জাহাজের। সবক’টিই ওই এলাকায় নোঙর করতে বাধ্য হয়েছে।  
ক’দিন আগে চিফ অফিসারের দায়িত্ব নিয়েছি। জাহাজটা নতুন। গুজরাতের জামনগরের সিক্কা বন্দর থেকে জেট ফুয়েল ভরে আমিরশাহিতে ডিসচার্জ করে। তারপর ফেরার কথা। এসব যুদ্ধের আগের কথা। তখন কে জানত এইসব হবে! যুদ্ধের দিনগুলিতে পারস্য উপসাগরে যা যা ঘটেছে, সেইসব ভিডিও দেখছিলাম ক্রুদের মোবাইলে। ইরান থেকে নাগাড়ে মিসাইল যখন ওমান আর আমিরশাহি দিয়ে উড়েছে, সেইসব ছবি ওরা ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছে। পেটের দায়ে জলে নামা আমাদের মতো মানুষজনের কাছে ওইসব অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। রাতবিরেতে জাহাজের মাথার উপর দিয়ে যদি মিসাইল উড়ে যায়, ফাইটার প্লেন উড়ে যায়, যদি চোখের সামনে দেখেন জলে ড্রোন-মিসাইলের দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা প্রজেক্টাইল পড়ল, কেমন লাগবে? তার উপর যদি আপনার জাহাজে তেল লোড করা থাকে, একটা টুকরো এসে পড়লেই খেলা শেষ! এই কারণেই আনলোড করার পর ট্যাঙ্কে কিছুটা ইনার্ড গ্যাস রাখা হয়। তাহলে আগুন লাগলেও তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে না।   যদিও এই মুহূর্তে পারস্য উপসাগরে যত জাহাজ আটকে, বেশিরভাগেরই পণ্য আনলোড করা হয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু জাহাজে অবশ্য তেল আছে, গ্যাসোলিন আছে। যেটুকু খবর পাচ্ছি, প্রায় ২০০টা জাহাজ আটকে। এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ নাবিকদের চাঙা রাখা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাহাজে বিদ্রোহ হয়। চোখের সামনে দিনরাত জল আর অনিশ্চয়তায় পাগল-পাগল দশা হয়। তাই সবাইকে হালকা মেজাজে রাখা দরকার। সেইসঙ্গে যে কোনও ধরনের বিপদ মোকাবিলার মক ড্রিল করিয়েছি। তবে এ সমস্যা সহজে মেটার নয়। ইরান বাঘের বাচ্চা। এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বে না। ততদিন জলেই কাটবে আমাদের।

সম্পর্কিত সংবাদ