শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার শুধু ‘১০০ ডায়াল’ নয়। ১১২-তে ডায়াল করেও মিলবে পুলিশের সাহায্য। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে খুব শীঘ্রই এই নয়া হেল্পলাইন নম্বর চালু হতে চলেছে। শুধু পুলিশ নয়, এই নম্বরে ফোন গেলেই প্রয়োজনমতো মিলবে দমকল, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরি পরিষেবার সাহায্য। দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছে যাবে পুলিশ থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ইউনিট। ফলে যে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় মোকাবিলা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ও কম সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে। প্রশাসনের আশা, এভাবে বাঁচানো যাবে অনেক প্রাণও।
পুলিশ, দমকল বা অন্যান্য জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা আলাাদ হেল্পলাইন রয়েছে রাজ্যগুলিতে। কোনো ঘটনা ঘটলে সাহায্যের জন্য কত নম্বরে ডায়াল করবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই ১০০ ডায়াল করে বসে আম জনতা। কিন্তু ১০০ ডায়ালে জানানো সমস্যা যদি পুলিশ সংক্রান্ত না হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সংশ্লিষ্ট জরুরি বিভাগে ফোন করতে হয় পুলিশকেই। সেক্ষেত্রে কিছুটা সময় লেগে যায়। একদিকে ‘রেসপন্স টাইম’ কমানো, পাশাপাশি মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং সবাই সহজে মনে রাখতে পারে, এমন নম্বর চালু করার সিদ্ধাম্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেইমতো চালু হয় ‘ডায়াল ১১২’। প্রতিটি রাজ্যকে এই নম্বর চালু করার নির্দেশ পাঠায় দিল্লি। অন্য রাজ্য চালু করলেও এতদিন পশ্চিমবঙ্গে তা চালু করা যায়নি। এই সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ না করায় গোটা প্রক্রিয়াটি থমকে ছিল।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই অবস্থায় ‘নির্ভয়া তহবিল’-এর টাকায় প্রকল্পটি শুরু করার জন্য উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য একটি কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলা দরকার। যেখানে ১১২-র কলগুলি আসবে। এখান থেকেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছবে সাহায্যের আবেদন। গোটা প্রক্রিয়াটি হবে জিপিএস ভিত্তিক। একই সঙ্গে, এই নম্বরে যিনি কল করলেন, তাঁর মোবাইলটি কার নামে নেওয়া, বাড়ির ঠিকানা কী, সমস্তটাই ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেমে (ইআরএস) ভেসে উঠবে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা বা তাঁর অবস্থান জানা সহজ হবে। এমনকী, কেউ যদি ভুয়ো কলও করেন, সেক্ষেত্রে কলের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে অভিযুক্তকে। গোটা সিস্টেম চালু করার জন্য একটি অত্যাধুনিক সফটওয়ার জরুরি, যা সমস্ত ডেটা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। একইসঙ্গে জিপিএস ভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তবে পুরনো ‘১০০ ডায়াল’ থাকছে। নতুন নম্বর চালু হলে বিভিন্ন বিভাগের কাছে খবর পৌঁছতে অনেক কম সময় লাগবে। জিপিএস লোকেশন ধরে কারও বাড়ি বা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে পারবেন পুলিশ, দমকল বা স্বাস্থ্য বিভাগের কমীরা।