Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: রোগীর জন্য নয়, ট্রলি ব্যবহার হচ্ছে ওয়ার্ডের ওষুধ-চিকিৎসা সামগ্রী নিতে

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ট্রলি মেলে না। ট্রলির অভাবে রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। সেখানে স্টোর থেকে ওষুধ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে ট্রলি।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: রোগীর জন্য নয়, ট্রলি ব্যবহার হচ্ছে ওয়ার্ডের ওষুধ-চিকিৎসা সামগ্রী নিতে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ট্রলি মেলে না। ট্রলির অভাবে রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। সেখানে স্টোর থেকে ওষুধ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে ট্রলি। 

Advertisement

এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চূড়ান্ত অব্যবস্থা দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ডে ট্রলি রেখে দেওয়া হচ্ছে। স্টোর থেকে ওষুধ ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।  ওয়ার্ড থেকে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নিয়ে জুলুমবাজি করা হয়। ওয়ার্ডে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ টাকার বিনিময়ে এই ট্রলি ব্যবহার করছেন। এভাবে ট্রলির অপব্যবহার বন্ধ করার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও নজরদারি নেই। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসা পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য অন্যান্য বিষয়গুলির মতো ট্রলির রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণের জন্যও একজন নোডাল অফিসার রাখা হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন নোডাল অফিসার থাকা সত্ত্বেও ট্রলি পাওয়া নিয়ে কেন এত সমস্যা, কেনই বা ট্রলির অপব্যবহার হচ্ছে। 
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এবং এমএসভিপি ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক স্বীকার করেছেন, দায়িত্ব সবাইকেই দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। সকলে ঠিকমতো কাজ করতে চায় না। 
সম্প্রতি জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে রোগী নিয়ে যাওয়ার ট্রলি পাওয়া নিয়ে সমস্যার অভিযোগ বেড়েছে। ট্রলি না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যুরও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তারপরেও কিছু কর্মীর গাফিলতিতে এসব ঘটছে জেনেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। 
২৫ নম্বর কাউন্টারে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা কোনও নথি জমা দিয়ে ট্রলি নিতে হয়। কিন্তু সেখানে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩০টি ট্রলি। চাহিদার তুলনায় যা খুবই সামান্য। একজন একটি ট্রলি নিয়ে যাওয়ার পর সেই ট্রলি ফিরে আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও রোগীকে ট্রলিতে করে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সেই ট্রলি খালি হতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ওয়ার্ডে এভাবে ট্রলি কেন আটকে রাখা হচ্ছে সেবিষয়ে কোনও নজরদারি নেই বলে অভিযোগ। 
ট্রলি করে একজন রোগীকে এমআরআই, সিটিস্ক্যান সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। তাই ট্রলির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বহু মানুষ তা পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বস্তায় রোগীকে শুইয়ে, পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই হাসপাতালে দেখা যায়। 
হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ট্রলি ওয়ার্ডে আটকে রাখা, স্টোর থেকে জিনিস নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কালীপুজোর পর নতুন ট্রলি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ