বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে পাড়ার দুর্গামন্দিরে প্রণাম করে রামপুরহাট গান্ধী পার্কে মর্নিং ওয়াকে আসেন। প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেও এই রুটিনে বদল হয়নি। তবে মর্নিং ওয়াক সেরে বাড়ি ফিরে স্নান, টিফিন করা এখন হচ্ছে না। কিছুক্ষণ হেঁটে পার্ক থেকেই সোজা প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন তৃণমূলের রামপুরহাটের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিধানসভার বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের ফলাফলে তৃণমূল শহরে পিছিয়ে রয়েছে। বিজেপি শহরের ভোট ধরে রাখার বিষয়ে আশাবাদী। জোর প্রচারে নেমেছেন সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিকও। এই পরিস্থিতিতে জয় ছিনিয়ে আনতে পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরই ভরসা করছে শাসকদল।
রবিবার সকালে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আশিসবাবুর প্রচার কর্মসূচি ছিল। সেখানে কর্মী-সমর্থকরা আগে থেকেই হাজির ছিলেন। প্রার্থী পৌঁছাতেই ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি ওঠে। এরপর কখনও দোকানে দোকানে, আবার কখনও অলিগলিতে ঢুকে হাতজোড় করে ভোট প্রার্থনা করলেন তিনি। এক যুবক ‘স্যার’ সম্বোধন করে অধ্যাপক প্রার্থীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। বলেন, ‘আমি আপনার ছাত্র’। প্রার্থীও তাঁকে বুকে টেনে নেন। আর একটু এগিয়ে যেতেই স্থানীয় মহিলারা প্রার্থীকে বলেন, আপনার আসার দরকার ছিল না। আশিসবাবু বলেন, সেটা জানি। তা হলেও নির্বাচনের সময় না এলে অনেকেই অভিমান করতে পারেন।
এরই মাঝে চায়ের দোকানে গিয়ে চিনি ছাড়া চা খান। তারপর আবার বাড়ি বাড়ি প্রচার। পরে তিনি ওয়ার্ডের নির্বাচনি কার্যালয়ে এসে বসেন। সেখানে এক গ্লাস লস্যি খেয়ে টিফিন সারেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি চাকাইপুর গ্রামে চলে যান। সেখানে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেন। উপস্থিত মানুষ তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে ফিরে ভাত, ডাল, সবজি ও টক দই খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। বিকেলে শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মিছিল করেন।
আশিসবাবু বলেন, শরীর সুস্থ রাখতে যেটুকু না খেলেই নয়, তাই খাচ্ছি। তেলমশলা একদম কম। তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর টিআরডিএ, পুরসভা ও বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। তবে শহরের আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস জানান দিচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের ভরসা অটুট।
টানা পাঁচবারের বিধায়ক। এলাকার সবার কাছে পরিচিত আশিসবাবু। তাঁর প্রচারে কোনো চমক নেই। ‘ম্যান টু ম্যান’ নক করতে হেঁটে প্রচারেই বরাবর জোর দিয়ে এসেছেন। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না।
আশিসবাবু বলেন, সারাবছরই মানুষের পাশে থাকি। যাঁরা সারাবছর পড়াশোনা করে, তাঁদের পরীক্ষার মুখে অতিরিক্ত পড়তে হয় না। তাই প্রচারে চমক দেওয়ার কিছু নেই। যাদের শুধু ভোটের সময় মানুষের জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে, তারা নজর কাড়তে চমক দেবে। রামপুরহাটে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।-নিজস্ব চিত্র