নয়াদিল্লি: ‘উত্তরপ্রদেশে আইনের শাসন একেবারে ভেঙে পড়েছে।’ একটি মামলা চলাকালীন যোগী রাজ্যের পুলিসকে এই ভাষাতেই ভর্ৎসনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। উত্তরপ্রদেশ পুলিস যেভাবে সাধারণ দেওয়ানি মামলাকে ফৌজদারি মামলায় পরিণত করছে তা নিয়েই সোমবার প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। কেন দেওয়ানি বিরোধ মেটাতে ফৌজদারি আইন ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা চেয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিসের ডিজি এবং গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার এক থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে নয়ডার এক পুলিস আধিকারিককেও আদালতে হাজির হতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে যা হচ্ছে, তা ভুল। প্রত্যেকদিন দেওয়ানি মামলাকে ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক। এটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। কাউকে টাকা না দেওয়ার ঘটনাতেও ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়ে যাচ্ছে।’ বিচারপতি খান্না বলেন, ‘আমি তদন্তকারী আধিকারিক (আইও)-কে নির্দেশ দিচ্ছি যে নিম্ন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান। কেন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিন। আইওকে শিক্ষা দেওয়া উচিত।’ ডিভিশন বেঞ্চও প্রশ্ন তোলে যে, শুধুমাত্র দেওয়ানি মামলায় সময় বেশি লাগে বলে এফআইআর দায়ের করে ফৌজদারি মামলা শুরু করা যায় না।’
দেবু সিং ও দীপক সিং নামে দুই ব্যক্তি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলার বদলে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিল পুলিস। নয়ডার আদালতে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় তাঁরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্টও দেবু ও দীপকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাতিলের নির্দেশ দেয়নি। এদিন শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই দু’জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে চেক বাউন্সের মামলা যেমন চলছে, তেমনই চলবে।