সংবাদদাতা, বারুইপুর: বৈশাখ মাস শেষ হতে চলল, এখনও দেখা নেই বারুইপুরের বিখ্যাত বোম্বে লিচুর। এদিকে, বাজারে শেষের মুখে দেশি লিচু। বারুইপুরের ফলের বাজার ছেয়েছে জামরুল ও আমে। কলকাতা সহ শহরতলির বাজারেও একই চিত্র। লাভের মুখও দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কালিয়াচক, লালগোলা, মজফ্ফরপুরের লিচু ঢুকলে লিচুর বাজার জমজমাটি হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। জামাই ষষ্ঠীতে জামাইয়ের পাতে এই লিচুই দেবেন শ্বশুর-শাশুড়িরা।
বারুইপুরের শিখরবালি ১, শিখরবালি ২, কল্যাণপুর, শঙ্করপুর ১, শঙ্করপুর ২, ধপধপি ১, ধপধপি ২, বেলেগাছি, মদারাট, হাড়দহ, বৃন্দাখালি পঞ্চায়েত এলাকায় লিচুর রমরমা চাষ হয়। প্রতি বছরেই এপ্রিল-মে মাসে বারুইপুরের কাছারি বাজার চত্বর ছেয়ে থাকে লিচুতে। এ রাজ্যের পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও যায় সেই লিচু। কৃষকদের কথায়, দু’ধরনের লিচু হয়। দেশি অর্থাৎ গোলা লিচু ও বম্বে লিচু। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি দেশি লিচু গাছ থেকে নিয়ে বাজারে চলে আসা হয়। সেই দেশি লিচু মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে থাকে। কল্যাণপুরের কৃষক অময় মণ্ডল বলেন, দেশি লিচু এখন খুবই অল্প আছে। এখন বাজারে থাকার কথা বম্বে লিচুর। কারণ, বোম্বে লিচুর ফলন একটু পরে আসে। কিন্তু সেই লিচুর ফলন এবারে তেমন হয়নি। তাই ব্যবসা এখনও জমেনি।
কেন ফলন হয়নি বম্বে লিচুর? কল্যাণপুরের আর এক কৃষক আমির খান বলেন, আবহাওয়ার জন্য গাছে বোল আসেনি। কুয়াশা আর জমাটি শীত না আসার জন্য বম্বে লিচুর ফলন হয়নি। তবে লিচুর অভাব পূর্ণ করছে জামরুল, আম। হিমসাগর থেকে শুরু করে গোলাপখাস, মধুবুলবুলি, বম্বে আমে ভর্তি বাজার। গোকুল নস্কর নামে এক কৃষক বলেন, বারুইপুরে এবার আম ও জামরুলের ভালো ফলন হয়েছে। গোলাপখাস ১২০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। হিমসাগর পাইকারিতে ২৫ টাকা কিলোতে বিক্রি হচ্ছে। মধুবুলবুলি আম ১৫০ টাকা পাল্লা (পাঁচ কিলো) দরে বিক্রি হচ্ছে। বম্বে আম ৩০ টাকা কিলো দাম যাচ্ছে। আমির খান বলেন, জামরুল ২০০ টাকায় একশো দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনও কোনও কৃষক ৩০০ টাকাতেও একশো জামরুল বিক্রি করছেন। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। লাল জামরুল ১২ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের আশা, মে মাসের শেষেই বাজার ভরে যাবে লালগোলা, কালিয়াচকের লিচুতে। নিজস্ব চিত্র