সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতন আশ্রমে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে বেশ কিছু নিয়মের কথা জানাল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। শনিবার এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। পর্যটনের স্বার্থে বিশ্বভারতীর নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ আশ্রম প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য খোলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে পঠনপাঠনের কারণে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম বলবৎ করেছে কর্তৃপক্ষ। ক্লাস চলাকালীন জনসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কখন, কতজন প্রবেশ করবেন, সেই বিষয়টিও দর্শনার্থীদের আগাম জানাতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তকে রবীন্দ্র অনুরাগীরা স্বাগত জানিয়েছেন।
করোনা পরিস্থিতির জেরে ২০২০সালের ৬ মার্চ শান্তিনিকেতনে ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব বাতিল করেছিল ইউজিসি। তার পরপরই লকডাউনে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তালা ঝোলে। দু’বছর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সিদ্ধান্তে শুধু পর্যটক বা স্থানীয় বাসিন্দা নয়, প্রাক্তনী-আশ্রমিকদেরও ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার ছিল না। সংবাদমাধ্যমের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। অস্থায়ী উপাচার্যদের আমলেও ওই নিয়ম কার্যকর ছিল। গত মঙ্গলবার বিশ্বভারতীতে স্থায়ী উপাচার্যের পদে বসেন প্রবীরবাবু। তারপরই তিনি আশ্রম প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশের অনুমোদন দেন।
বিশ্বভারতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনেস্কোর লিভিং হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই হেরিটেজ কোর এরিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শান্তিনিকেতনের আশ্রম এলাকা এখনই সাধারণ মানুষের জন্য খোলা হচ্ছে না। খুব তাড়াতাড়ি তা চালু করা হবে। প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে সপ্তাহের কোন দিন, কতজন, প্রবেশ করতে পারবেন সেবিষয়ে যথাযথ পদ্ধতি হওয়া দরকার। ইউনেস্কো বিশ্বভারতীর উপর ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। তাই পর্যটন ও পরিবেশ দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মাবলি মেনে চলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স বুধ ও বৃহস্পতিবার ছাড়া সবদিনই খোলা। তবে আশ্রমে প্রবেশের ক্ষেত্রে জনসংযোগ দপ্তর থেকে দু’সপ্তাহ আগে অনুমতি নিতে হবে। তার জন্য ই-মেলে আবেদন করতে হবে। সেখানে পরিদর্শনের দিন, সময়, দর্শনার্থীদের সংখ্যা, সংস্থা প্রভৃতি খুঁটিনাটি বিষয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া স্কুল চলাকালীন বুধ ও রবিবার বাদে সপ্তাহের সমস্ত দিন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আশ্রমে প্রবেশে অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তকে প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা স্বাগত জানিয়েছেন। ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্বভারতী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয় সেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে সচেতনভাবে দেখতে হবে। আশা করি অবাঞ্ছিত প্রবেশে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।