নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার প্রায় ৪০ হাজার বিচারাধীন ভোটার রয়েছেন। তাঁদের নথি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ভোট না করার ব্যাপারে মোটামুটি সব দলই একমত হয়েছে। ভোটের আগেই ওই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি হেস্তনেস্ত চাইছে। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে বিলম্বের জন্য তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করেছে। তৃণমূল পাল্টা নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বিঁধেছে।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা অবৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলাম। তবে কোনো বৈধ ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, তা দেখতে হবে। তাঁদের ভোটাধিকারও নির্বাচন কমিশন তথা রাজ্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিশ্চিত করতে হবে। বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাইয়ে বিচারবিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তারজন্য তৃণমূল ও রাজ্য সরকার দায়ী।
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলে দিয়েছিল। সেখান থেকেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। বিজেপি নেতারা শুরু থেকে এক কোটি রাজ্যবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন বিজেপি-র মনোবাসনা পূর্ণ করতেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। বহু বৈধ ভোটারকে ইতিমধ্যেই বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নাম বিচারাধীন হিসাবে রেখে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। নির্বাচনের দিন বৈধ ভোটারকে বুথ থেকে দূরে রাখা চলবে না।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোটদান মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। একজন বৈধ ভোটারকেও ওই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট করা চলবে না, এই দাবিতে আমরা অনঢ় রয়েছি।
বাঁকুড়া জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী রাধারানি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈধ ভোটারকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিজেপি ও তৃণমূলের দড়ি টানাটানিতে ভোটাররা হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। প্রয়োজনে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নো-ম্যাপিং ও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছিল। তারমধ্যে চার হাজার নাম বাদ পড়েছে। বাকিদের মধ্যে ৪০ হাজার ভোটারকে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। নথি দেওয়ার পরেও অনেককে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বাঁকুড়া শহর ও বড়জোড়া, সোনামুখী এলাকার মানাচরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে অথবা বিচারাধীন রয়েছে বলে সিপিএম অভিযোগ করেছে। বাম দলগুলির তরফে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলও জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে নালিশ জানিয়েছে। অনেকে নতুন করে তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদনও করেছেন। বিচারাধীন ভোটারদের জমা পড়া নথি বিচারকরা যাচাই করছেন। তাঁদের ‘রায়ের’ উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিচারকদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবশ্য জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা কিছু জানাতে পারেননি। বিচারাধীন কত ভোটারের নথি এখনো পর্যন্ত যাচাই হয়েছে, তাও আধিকারিকরা খোলসা করেননি। আদালত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করায় আধিকারিকরা এব্যাপারে মেপে পা ফেলতে চাইছেন।