শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা; স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে আগস্টে। একাধিকবার টেন্ডার ডেকেও অংশগ্রহণ করেনি কোনও কোম্পানিই। বর্তমান সংস্থাও আগ্রহী নয়। সিভিক এবং ভিলেজ পুলিশসহ সহযোগী পুলিশ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে চূড়ান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় কোনও সহযোগী পুলিশ ও পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে বিমা সংস্থা থেকে মিলবে না কোনও টাকাই। এই কারণে ভালো নার্সিংহোম দূর ছোটোখাটো বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁদের ভর্তি নিচ্ছেন না কেউ।
সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ কর্মীসহ সহযোগী পুলিশ কর্মীর সংখ্যা রাজ্যে দু’লক্ষের কাছাকাছি। তাঁরা বা তাঁদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে যাতে ভালো নার্সিংহোমে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন সেজন্য আলাদা স্বাস্থ্যবিমা চালু করে নবান্ন। তাঁরা ছাড়াও মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান এই গ্রুপ মেডিক্লেম পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সব মিলিয়ে উপকৃত হয় প্রায় আট লক্ষ পরিবার। সহযোগী পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে বছরে প্রিমিয়াম বাবদ ৪,৫০০ টাকা করে নেওয়া হতো। এক লক্ষ টাকা টাকা পর্যন্ত কভারেজ ছিল। ক্যান্সারসহ জটিল আটটি রোগের চিকিৎসায়ও বাফারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়ার পর মেডিক্লেম পলিসি নিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হয়নি। সহযোগী পুলিশ কর্মী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভালো জায়গায় চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। এমনকি অনেকে জটিল রোগের পর্যন্ত চিকিৎসা করাচ্ছেন।
বিমা সংস্থার সঙ্গে প্রতিবছর চুক্তি হয় রাজ্য পুলিশের। এর জন্য অনলাইনে দরপত্র ডাকেন আধিকারিকরা। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, এই প্রথম বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট বর্তমান বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার একমাস আগে থেকেই পুলিশের তরফে একাধিকবার টেন্ডার ডাকা হয়। সূত্রের খবর, কোনও বিমা কোম্পানি টেন্ডারেই অংশ নেয়নি। অন্যদিকে, কাজ চালাতে রাজি হয়নি বর্তমান বিমা কোম্পানিও। এই মূহূর্তে সহযোগী পুলিশ কর্মীদের কোনও স্বাস্থ্যবিমাই নেই। এই অবস্থায় তাঁরা বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কোনও বড় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন না, যদি না তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা থাকে। আর যাঁরা ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন তাঁদের সংকট আরও গভীরে। বর্তমান বিমা সংস্থা টাকা দিতে রাজি না-হওয়ায় চিকিৎসা জুটছে না বলে খবর।
এই জটিলতা সৃষ্টির পিছনে বর্তমানে টিপিএর দায়িত্বে যে কোম্পানি রয়েছে তাকেই দুষছেন পুলিশ মহলের একাংশ। তাদের দাবি, এই টিপিএ সহযোগী পুলিশ সাজিয়ে ভুয়ো বিল তুলে দুর্নীতি করেছে। বর্তমান বিমা কোম্পানি তাই নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। সূত্রের খবর, এই টিপিএর কারণে কোনও বিমা কোম্পানি টেন্ডারে অংশই নেয়নি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন রেট একই রয়েছে। এই কারণেও উৎসাহ দেখাচ্ছেন না কেউ। এই সমস্যার কথা জানিয়ে পুলিশ ডিরিক্টেরেটে চিঠিও দিয়েছে রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটি। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিটির আহ্বায়ক বিজিতাশ্ব রাউত জানান, তাঁরা বিষয়টি জানিয়ে ডিজিকে চিঠি দিয়েছেন। সমস্যা মিটে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।