Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোথাবাড়ি কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুলের বিপুল আর্থিক লেনদেনের উৎস সন্ধানে এনআইএ

মোথাবাড়িতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লেনদেনের হদিশ পেয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

মোথাবাড়ি কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুলের বিপুল আর্থিক লেনদেনের উৎস সন্ধানে এনআইএ
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোথাবাড়িতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লেনদেনের হদিশ পেয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।  কী কারণে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল তা জানতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অশান্ত করার জন্য তাঁর কাছে কেউ টাকা পাঠিয়েছিল কি না সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে সেদিনের ঘটনা নিয়ে মালদহ জেলা পুলিশের কার কী ভূমিকা ছিল, কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দিচ্ছে এনআইএ।

Advertisement

নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে মালদহে মোথাবাড়ির বিডিও অফিসে এসআইআরের কাজে আসা সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। অনেকক্ষণ পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করলেও রাস্তায় ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। এই নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিচারকদের আটকে রাখা ও তাঁদের গাড়িতে  হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। কালিয়াচক থানার মামলায় তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে জেলা পুলিশ। 
এর সঙ্গে এনআইএ তাঁর সম্বন্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এনআইএ আধিকারিকরা জেনেছেন, গত কয়েকবছরে ইটাহার ও মালদহে বিঘার বিঘার পর জমি কিনেছেন এই আইনজীবী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টাকা পেমেন্ট হয়েছে নগদে। কিন্তু এই টাকা তিনি পেলেন কোথা থেকে সেটাই জানতে চাইছে এজেন্সি। আর এত জমি কেনার প্রয়োজন কেন পড়ল তাঁর, সেটাও ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্তকারীদের মনে। ওই আইনজীবী আয়কর দিতেন কি না এবং দিলে কত টাকা কর দিয়েছেন, সেই সংক্রান্ত বিষয় জানতে চেয়ে আয়কর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন অফিসাররা। একইসঙ্গে তাঁর ব্যাংক লেনদেনও তাঁদের নজরে। 
প্রাথমিকভাবে এনআইএর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই আইনজীবীর অ্যাকাউন্টে ৭৪ লক্ষ টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই টাকা এসেছে। তার মধ্যে কিছু এনজিও আছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি এত টাকা পেলেন কেন, সেটা জানা এনআইএ-র উদ্দেশ্য। তাঁকে টাকা পাঠিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলির কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, পরিকল্পনা করেই মোফাক্কেরুল গোটা ঘটনা ঘটিয়েছেন। সেই 
কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি তহবিল সংগ্রহ করছিলেন কি না সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশ 
কর্তাসহ বিভিন্ন অফিসারদের সঙ্গে কথা বলার পর এনআইএ জেনেছে, একাধিক জায়গায় ফাঁক ছিল। যে ধরনের সক্রিয়তা দেখানো উচিত ছিল সেটা প্রথমে দেখানো  হয়নি। আক্রান্ত বিচারকদের উদ্ধারে অনেকটাই দেরি হয়েছে। একইসঙ্গে সক্রিয়তা না- থাকার কারণেই উসকানিতে অভিযুক্তরা রাস্তায় বাঁশ ফেলেছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে হামলা চালাতে পেরেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ