নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সরকারি হাসপাতালে জীবিত সদ্যোজাতকে ‘মৃত’ ঘোষণার অভিযোগ। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে এ ঘটনার জেরে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সরকারি হাসপাতালে জীবিত সদ্যোজাতকে ‘মৃত’ ঘোষণার অভিযোগ। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে এ ঘটনার জেরে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়েছে।
পরিবারের দাবি, জীবিত সদ্যোজাতকে ‘মৃত’ বলে জানিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকী ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে। এরপর দেহ নিতে এসে তারা দেখে, শিশু বেঁচে আছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তড়িঘড়ি তখন ফের চিকিৎসা শুরু হয় শিশুর। যদিও ‘মৃত’ ভেবে দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখায় সদ্যোজাতকে শেষপর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরিবারের দাবি, জীবিত শিশুকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করায় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। ছিঁড়ে ফেলা হয় ডেথ সার্টিফিকেট। ভয় দেখানো হয়, কোথাও অভিযোগ জানালে শিশুর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সদ্যোজাতর দেহ কাটাছেঁড়ার ভয়ে তারা লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই দেহ নিয়ে কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধার বাড়ি ফেরে। তবে পুলিসকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে তারা। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে এক সদ্যোজাতর মৃত্যু নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। যদিও পরিবার থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এদিকে, গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ। তিনি বলেন, ঘটনার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শিশুটি বেঁচে থাকা অবস্থায় যদি ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়ে থাকে, তাহলে তা হাসপাতালের রেকর্ডে থাকবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরিবারটি লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। সুপারের দাবি, শিশুটি প্রি-ম্যাচিওর ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সময় না হলেও প্রসবযন্ত্রণা ওঠায় অন্তঃসত্ত্বাকে ১৪ মার্চ মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে আনা হয়। সন্তানের জন্মও দেন। কিন্তু হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, সদ্যোজাত মারা গিয়েছে। পরে এসে তারা যেন শিশুর দেহ নিয়ে যায়। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির লোকজন দেহ নিতে এসে দেখেন, শিশুটি বেঁচে আছে।