নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এবার আমডাঙা কাণ্ডে নয়া মোড়। প্রেমিকার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ‘খুন’ করার পরিকল্পনা করেছিল প্রেমিক। কিন্তু মসিয়ার তা কোনওরকমে রুখে দেন। সেই ধারালো কাটারির আঘাত লাগে তাঁর মুখে। ধৃত আরিফুল মণ্ডলকে প্রাথমিক জেরায় এই তথ্য জানতে পেরেছে আমডাঙা থানার পুলিস। এখন সেই কাটারির খোঁজ করছে পুলিস।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ আমডাঙার তারাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাউতারা এলাকায়। ওইদিন রাতে বাপের বাড়িতেই ছিলেন গৃহবধূ রুকসানা বিবি। মেয়েকে খাবার দেওয়ার নাম করে সেখানে স্বামীকে ডেকে পাঠায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক আরিফুলকে ফোন করে সে জানায়, স্বামী বেরিয়েছে। এদিকে, স্ত্রীর কথা মতো বছর দু’য়ের মেয়ের খাবার নিয়ে সাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ির দিকে রওনা হন মসিয়ার। সেই সময় অন্ধকার ঝোপের ধারে দাঁড়িয়েছিল আরিফুল। অতর্কিতে সে মসিয়ারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গলায় ধারালো কাটারির কোপ মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। মসিয়ার তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে কোপ লাগে মুখের ডানদিকে। চোখের তলায় ব্যাপক ক্ষত তৈরি হয়েছে। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। প্রথমে গুলি চালানোর কথা বলা হলেও শরীরে বুলেটের কোনও হদিশ মেলেনি। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশেও গুলির খোল মেলেনি। ফলে, গুলি চলার অভিযোগকে ঘিরে ধোঁয়াশায় আমডাঙা থানার পুলিস। বুধবার মূল অভিযুক্ত আরিফুল ও গৃহবধূ রুকসানা বিবিকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক আরিফুলকে পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজত ও রুকসানাকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আরিফুলকে জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে, গুলি চালায়নি সে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুনের পরিকল্পনা ছিল। তাদের পরকীয়ার সম্পর্কে ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানো মসিয়ারকে সরাতেই খুনের ছক কষেছিল ওই যুগল। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময় জেরায় একেক রকম বয়ান দিয়েছে আরিফুল। পরকীয়ার কারণেই যে এই ঘটনা, সে ব্যাপারে তদন্তকারীরা একপ্রকার নিশ্চিত। একটা সময় আরিফুল ও মসিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। কিন্তু তারপর প্রেমের সম্পর্কের জেরে পরিণতি যে এমন চরম হবে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউ। পুলিসের এক কর্তা জানিয়েছেন, ধৃতকে জেরা করে তদন্তের জাল গোটানোর চেষ্টা চলছে। তবে ওই রাতে গুলি যে চলেনি, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। ধারালো অস্ত্র দিয়েই কোপ মারা হয়েছিল। সেই অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।