নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে এসআইআরের মাঝেই মৃত ব্যক্তিদের আধার-তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এরাজ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ ‘মৃত ব্যক্তি’র আধার নম্বর কমিশনকে দিয়েছে ইউআইডিএআই বা আধার কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার এইসব আধারের ভিত্তিতে এসআইআরে ৩৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে?
যদিও কমিশনের ব্যাখ্যা, ভোটার তালিকায় যাতে একজনও মৃত ভোটারের নাম না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আধার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা দানা বেঁধেছে। আধার তথ্য নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউআইডিএআই দপ্তরের এরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শুভদীপ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে আধার চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৩৪ লক্ষ মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর কমিশনকে দিয়েছেন তাঁরা। এছাড়াও কমিশনকে আধার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের এমন ১৩ লক্ষ মানুষের হিসেব পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের কখনওই আধার কার্ড ছিল না।
শুধু আধার কর্তৃপক্ষই নয়। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে কমিশন। যে সব অ্যাকাউেন্টে দীর্ঘদিন কেওয়াইসি আপটেড করা হয়নি, মূলত সেই সব অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন, বিধবা ভাতা ও সমব্যথীর মতো প্রকল্পে আবেদনকারীদের তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে কমিশন। মূলত মৃত ভোটার খোঁজা এবং নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
তবে এসআইআর চলাকালীন একলপ্তে ৩৪ লক্ষ ভোটারের আধার তথ্য সংগ্রহ করায় স্বাভাবিকভাবেই ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই তথ্য কাজে লাগাতে চাইছে কমিশন। যদি দেখা যায়, কোনও ব্যক্তির নামে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা হয়েছে, অথচ তিনি মৃত... তখন আরও একবার তাঁর তথ্য যাচাই হবে। সেক্ষেত্রে তাঁকে তলব করার কাজটাও সহজ হবে। তবে কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই অস্বচ্ছ, যাচাই না করা তথ্যের ফলে যদি একজনও বৈধ ভোটারের নাম মুছে যায়, সেক্ষেত্রে তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ অনেকটাই শেষের পর্যায়ে বলে জানিয়েছে সিইও অফিস। এখনও পর্যন্ত মোট ৭.২৭ কোটি ফর্ম বিলির কাজ শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে। সোমবার থেকে ফর্ম জমা নেওয়া শুরু হবে। তবে কমিশন জানিয়েছে, এখনও ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৫৬ ইনিউমারেশন ফর্ম ছাপাই হয়নি! ফলে আম জনতার আশঙ্কা বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই।