নয়াদিল্লি: দেবীপক্ষের প্রথম দিন থেকেই ভারত আত্মনির্ভরতার দিকে আরও কয়েক কদম এগিয়ে যাবে। আজ, সোমবার দেশে শুরু জিএসটি সাশ্রয় উত্সব। রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সেকথা স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহালয়ার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন, তা নিয়ে সকাল থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে এদিন মোদি নতুন কিছু আর ঘোষণা করেননি। বরং জিএসটির নতুন কর কাঠমো কীভাবে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করবে, সেই খতিয়ানই দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন জানান, সোমবার নবরাত্রির প্রথম দিন। আর এদিন থেকে নতুন প্রজন্মের জিএসটি কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে ভারতের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি এবং জিএসটি সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষের আড়াই লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলেও দাবি তাঁর। একে মধ্যবিত্তের জন্য ‘ডবল বোনাঞ্জা’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
জিএসটির নতুন কাঠমো কীভাবে সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে, এদিনের ভাষণে মূলত সেই দিকটাই তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দশকের পর দশক ধরে দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের কর দিতে হত। এন্ট্রি ট্যাক্স, সেলস ট্যাক্স, আবগারি, ভ্যাট, সার্ভিস ট্যাক্স মিলিয়ে কয়েক ডজন ট্যাক্স দেশে চালু ছিল। এক শহর থেকে অন্য শহরে পণ্য পাঠাতে গেলে অসংখ্য চেকপোস্ট পেরতে হত। এত কর দেওয়ার জন্য একটি পণ্যের দাম অনেকেটাই বেড়ে যেত। জিএসটি চালু হওয়ার পর কর সংক্রান্ত জটিলতা মিটে গিয়েছে। আর নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অনেকগুলিই করমুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আর কিছু পণ্যে মাত্র ৫ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে।
স্বদেশি পণ্য কেনার জন্যও এদিন দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভারত যখন উন্নয়নের শিখরে ছিল, তখন দেশের অর্থব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির সেই গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের পণ্য যেন ভারতকে গর্বিত করে। স্বদেশি পণ্য যেন আমাদের সমৃদ্ধ করবে।’ স্বদেশি পণ্যের উত্পাদন যাতে বৃদ্ধি পায়, তার জন্য রাজ্য সরকারগুলিকেও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের জন্যই দেশবাসী জিএসটির সংশোধিত কাঠামোর সুবিধা পেতে চলেছেন বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহালয়ায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘জিএসটি নিয়ে আজ
কেউ কেউ বড় ভাষণ দিচ্ছেন। বিমা থেকে জিএসটি কমানো বা করমুক্ত করার জন্য আমিই প্রথম চিঠি লিখি। জিরেতে কর আর হিরে করমুক্ত। মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছিল। এর ক্রেডিট হচ্ছে রাজ্যের, বাংলার।’ মমতা আরও বলেন, ‘বিমার প্রিমিয়াম যেন বাড়ানো না হয়। এর জন্য আমাদের রাজ্যের ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্যের মানুষ যে সুবিধা পাবে, তার জন্য বাংলার রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। শুধু ভাষণ দেওয়া ছাড়া কেন্দ্রের কোনও সহযোগিতা নেই। রাজ্যকে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। টাকাটা কেটেছে রাজ্যের জিএসটি থেকে। এর জন্য আমার দুঃখ নেই। সাধারণ মানুষের জন্য কাজটা হচ্ছে। এর জন্য আমি খুশি।’