নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর মেট্রো রুটে টোকেনের বদলে কয়েকমাস আগে চালু হয়েছে কাগজের কিউ আর কোড টিকিট। যদিও পুরনো গেট থেকে গিয়েছে। সেই গেটগুলি দিয়েই যেতে আসতে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রীকে। কারণ স্মার্ট গেটগুলিতে কিউ আর কোড স্ক্যানার বসিয়ে কাগজের টিকিট ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তারপর সমস্যা বেড়েছে। তার খেসারত রোজ দিতে হচ্ছে আম জনতাকে। কিউ আর কোড নিয়ে একাধিক স্টেশন সুপারভাইজারের মত, কর্মীর তীব্র আকাল চলছে। আমাদের এক জনের কাঁধে একের বেশি স্টেশনের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ যাত্রীরা কিউ আর কোড টিকিটের সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় নিত্যদিন গেটে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। বহু সময় স্ক্যানার কাজ করছে না। এক্ষেত্রে যাত্রীদের সাহায্য করার পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় যাত্রীরা আমাদের উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
মেট্রো ভবনের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য, টোকেন তৈরির খরচ অসম্ভব বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি কয়েক লক্ষ টোকেন খোয়াও গিয়েছে। লোকসান ঠেকাতে রেল বোর্ড আচমকা টোকেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সূত্রেই কাগজের টিকিট বিলির পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু গোড়াতেই গলদ ছিল। তা সংশোধন করা হয়নি। নর্থ-সাউথ মেট্রো করিডরের স্মার্ট গেটে এই কাগজের টিকিটে আসা-যাওয়ার কোনও সুবিধা ছিল না। সে সময় কমার্শিয়াল বিভাগের এক কর্তার পরামর্শে পুরনো মেশিনগুলিতে স্ক্যানার বসানো হয়েছিল। জোড়াতাপ্পি দেওয়া সে কাজের পর গেট ব্যবহার করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ওই একই সময়ে কালীঘাট স্টেশনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে স্টিলের গার্ড রেল বসানো হয়েছিল। রাতারাতি আর্থিক অনুমোদন হয়ে গিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, আত্মহত্যা ঠেকানো। যদিও বাস্তবে তা যাত্রীদের অস্বাচ্ছন্দ্যের কারণ হয়ে উঠেছে। ভিড়ের সময় গার্ড রেলে ধাক্কা খেয়ে বহু প্রবীণ আহত হচ্ছেন। মেট্রো থেকে নামা-ওঠা করার সময় চরম ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে। কলকাতা মেট্রোর একাধিক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা রেল অফিসারদের দাবি, খোদ প্রধানমন্ত্রী-রেলমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার পক্ষে সওয়াল করছেন। আর এখানে কাগজের ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রা শেষে অধিকাংশ যাত্রী সেই কাগজের টিকিট যত্রতত্র ফেলে ছড়িয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্প ধাক্কা খাচ্ছে।