কাঠমাণ্ডু: চীনপন্থী কে পি শর্মা ওলি এখন অতীত। নেপালের নতুন প্রজন্ম তথা জেন জি নেতৃত্ব এবার চাইছেন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করুক অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের কথায়, দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও যুবদের জন্য সুযোগ তৈরির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দুর্নীতির লড়াইয়ে কিছুটা সাফল্য মিলেছে। এবার ভারতকে পাশে চাই। নেপালি জেন জি কোর কমিটির দুই সদস্য তানাকা ধামি এবং অর্জুন শাহি বলেন, ‘আমরা চাই ভারত সহ অন্য দেশগুলি নেপালে বিনিয়োগ করুক।’ তাঁর সাফ কথা, দেশের উন্নতির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার।
জেন জি-র বিক্ষোভের জেরে নেপালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি। অন্তবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সুশীলা কারকি। ওলি সরকারের চীনপন্থী নীতি সাউথ ব্লকের চিন্তার কারণ হয়েছিল। এই অবস্থায় আন্দোলনকারীরা ভারতের সঙ্গে সুম্পর্কের বার্তা দিলেন। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য এখনও পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছেন জেন-জি নেতৃত্ব। জেন জি অফিসিয়াল কোর কমিটির অন্যতম সদস্য অর্জুন শাহি বলেন, ‘আপাতত অন্তর্বর্তী সরকারের দক্ষতা ও কাজকর্মের উপর আমরা নজর রাখব।’
রবিবার নেপালের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ৮-৯ সেপ্টেম্বরের গণ অভ্যুত্থানের সময় ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন জেলবন্দি এবং তিনজন পুলিস আধিকারিক। এছাড়াও জখম হয়েছেন ২ হাজার ১১৩ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মুখপাত্র প্রকাশ বুদাথোকি বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় শপিং মল এবং সরকারি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে এখনও দেহ উদ্ধার হচ্ছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী সুশীলা জেন-জির এই গণ অভ্যুত্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে আন্দোলনে নিহতদের ‘শহিদে’র মর্যাদা প্রদানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ নেপালি টাকা ক্ষতিপূরণেরও ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার আহতদের চিকিৎসার খরচ বহন করবে। তাঁদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।