নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: প্রয়াত হলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সিপিএম নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য। সোমবার রাত একটা ২৫ মিনিটে বর্ষীয়ান এই নেতা শহরের একটি হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪। দিনকয়েক ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: প্রয়াত হলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সিপিএম নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য। সোমবার রাত একটা ২৫ মিনিটে বর্ষীয়ান এই নেতা শহরের একটি হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪। দিনকয়েক ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
জনপ্রিয় এই নেতার প্রয়ানে শোকস্তব্ধ বামপন্থী কমী-সমর্থকরা। মঙ্গলবার সকালে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় সিটুর রাজ্যদপ্তর শ্রমিক ভবনে। তারপর সিপিএমের রাজ্যদপ্তর মুজফফর আহমেদ ভবন তারপর এসএফআই-ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্যদপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, অনাদি সাহু, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বহু নেতা-কর্মী শেষ শ্রদ্ধা জানান। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বারাসতে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাদপ্তরে শ্রদ্ধা জানাতে যান। বেলগাছিয়ায় বাসভবন থেকে লেকটাউন বইমেলা দপ্তর হয়ে বারসতের জেলাদপ্তর ও সিটুর জেলাদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয় দেহ। ভাটপাড়া শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ষাটের দশকের শেষ দিকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে কমিউনিস্ট আন্দোলনে হাতেখড়ি নেপালদেবের। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সে সময় সর্বভারতীয় সভাপতি এম এ বেবি। নেপালদেবের সহকর্মী ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সীতারাম ইয়েচুরি। নেপালদেব শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। সিটু শোকবার্তায় জানিয়েছে, পশ্চিমবাংলায় রেল হকার ইউনিয়ন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেপালদেব বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। রাজ্য ও জাতীয়স্তরে পরিবহণ শ্রমিক আন্দোলনেও যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে বাংলা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ। ১৯৯৭ সালে পার্টি থেকে বহিষ্কার। তবে ২০০৩ সালে আবার পার্টিতে ফেরানো হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ‘চাকা’ নামের একটি ছবি তৈরি করেছিলেন। অভিনয় করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ২০১৬ সালের বিধানসভায় গোপালপুর ও ২০১৯ সালের লোকসভায় দমদমে প্রার্থী হয়েছিলেন। পরাজিত হন। সম্প্রতি বামেদের ব্রিগেডে উপস্থিত ছিলেন।