নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সময়সীমার একেবারে শেষ লগ্নে এসে আংশিক হলেও, ভোটার তালিকার কাজে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে নিল নবান্ন। এই চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার পথেই হাঁটল রাজ্য সরকার। তবে এই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে কমিশনের নির্দেশ মানা নিয়ে, এখনও রাজ্যের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই সূত্রের খবর।
কমিশনের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেওয়ায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে তলব করেছিল কমিশন। ১৩ আগস্ট মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর মুখোমুখি হওয়ায়, তাঁরা নির্দেশ পুরণের জন্য মুখ্যসচিবকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। বৃহস্পতিবার যার ছিল শেষ দিন। জানা গিয়েছে, বুধবারই নবান্ন এই নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সমস্ত প্রক্রিয়া সেরে ফেললেও, রাত পর্যন্ত তা সামনে আসেনি। শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বারুইপুর পূর্বের ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তথাগত মণ্ডল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার এবং এইআরও সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নবান্ন। রাজ্যের এই সিদ্ধানের কথা মুখ্যসচিবের তরফে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
এই চার অফিসারের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসকের অফিসে ডেপুটি প্রোজেক্ট ডিরেক্টর পদে কর্মরত দেবোত্তম দত্ত চৌধুরির অবসর আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ফলে পেনশন তথ্য অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলেই জানাচ্ছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল। সেই ক্ষেত্রে সকলের নজর থাকবে বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টে উপর। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই রিপোর্ট যত তাড়াতাড়ি আসবে, তত দ্রুত এই আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।’
তবে অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, রাজ্যএফআইআর’র নির্দেশ না মানায় কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজ্যের এই ‘আংশিক নির্দেশ’ মেনে পদক্ষেপ নেওয়াটা কমিশন মেনে নাও নিতে পারে বলে তাঁদের মত। সেই ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের নতুন করে সংঘাতের অবকাশ থেকে যাচ্ছে বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। কারণ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধেও ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু, শুধু মাত্র সুদীপ্ত দাস ও সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিয়েই দায় সেরেছিল রাজ্য। সেই সঙ্গে কমিশনকে রাজ্য জানিয়েছিল, বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বাকি তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড ও এফআইআর করার মতো ‘কড়া পদক্ষেপ’ নেওয়া অনুচিত হবে। যা মানতে চায়নি কমিশন।