নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় শস্যবিমার আবেদন লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে চলেছে। বিমার আবেদনের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকার। ফলে শেষের দিকে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই চাষিদের আবেদন খতিয়ে দেখা শুরু হবে। তারপর তিন সপ্তাহ পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে জানা গিয়েছে। এবার জেলায় প্রায় পাঁচ লক্ষ চাষিকে বিনামূল্যে বাংলা শস্যবিমার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছিল কৃষিদপ্তর। বিমার আবেদন জমা পড়েছে প্রায় চার লক্ষ ৮০ হাজার। সাড়ে চার লক্ষ আবেদনকারীর ফর্ম অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে বাকি চাষিদের ফর্ম আপলোড হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। বিমার জন্য কোনও অর্থ দিতে হয় না বাংলার চাষিদের। এবার বিমার জন্য জেলাজুড়ে আবেদনে ভালো সাড়া পড়েছে। প্রসঙ্গত, কোনও প্রাকৃতিক কারণে চাষিদের উৎপাদিত ফসল নষ্ট হলে তাঁরা যাতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বাংলা শস্যবিমা যোজনা চালু করে রাজ্য সরকার। চাষিদের হয়ে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা মেটায় রাজ্য। জেলার উপকৃষি অধিকর্তা(প্রশাসন) মোহনলাল কুমার বলেন, ৫ লক্ষ চাষিকে বিমার আওতায় আনার টার্গেট ছিল। আমরা সেই টার্গেট পূরণ করতে পেরেছি। এখনই প্রায় পাঁচ লক্ষ চাষির আবেদন জমা পড়ে গিয়েছে। অনলাইনে নাম নথিভুক্তিকরণ চলছে। এরপর আবেদন খতিয়ে দেখে প্রতিটি ব্লক আধিকারিকরা আমাদের কাছে পাঠাবেন। তারপর সেই আবেদন খতিয়ে দেখে আমরা রাজ্যকে পাঠাব। রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করে সরাসরি চাষিদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবে। সীমান্তবর্তী এই জেলা থেকে প্রতিবছরই শস্যবিমায় আশানুরূপ আবেদন পাওয়া গিয়েছে। চাষিদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য বছরে দু’বার নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হয়। খরিফ মরশুমে ধান চাষে প্রতিবার ভালো আবেদন জমা পড়ে। ফসলের ক্ষতি হলে প্রতিটি ব্লকের চাষিদের করা আবেদনের ভিত্তিতে গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক উপগ্রহ চিত্র খতিয়ে দেখেন ইন্সুরেন্স কোম্পানির কর্মীরা।



