Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় এক বছরে ১১৫ কোটি টাকা দিয়েছে নবান্ন

চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত বীরভূম জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১১৫কোটি টাকা দিয়েছে নবান্ন

জেলায় এক বছরে ১১৫ কোটি টাকা দিয়েছে নবান্ন
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত বীরভূম জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১১৫কোটি টাকা দিয়েছে নবান্ন। শুধু এই জেলার বেসরকারি নার্সিংহোম বা হাসপাতাল নয়। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে নামী বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে গিয়ে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার পরিষেবা পেয়েছেন নানুর ব্লকের বাসিন্দারা। 

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্যসাথী বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় মোট ১০লক্ষ ৮৪হাজার ৬১৫টি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে। মোট উপভোক্তা রয়েছেন ৪০লক্ষ ৬৮হাজার ৫৯৩জন। চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ৭০হাজার ৪৭০জন উপভোক্তা সুবিধা পেয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ১১৪কোটি ৯৩লক্ষ টাকা। আরও জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে জেলার মধ্যে নানুর ব্লকের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। শুধু নানুর ব্লকের জন্য এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে আট কোটি তিন লক্ষ টাকা। সবচেয়ে কম খরচ হয়েছে নলহাটি পুরসভার বাসিন্দাদের জন্য। সেখানে জনবসতি কম হওয়ার কারণে খরচের পরিমাণ অন্যান্য পুরসভা এলাকার তুলনায় কম। 
বীরভূম জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য ৫১টি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই প্রকল্পে পরিষেবা দিয়েছে। অন্য তিনটি হাসপাতালে সরকারি নির্দে঩শেই আপাতত পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ২৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও এই প্রকল্পে সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তারা বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে করাতে পারছেন। রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় উন্নত পরিষেবাযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে  অনেক হৃদরোগের আক্রান্ত সুস্থ হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে দুয়ারে সরকার শিবিরে একদিনের মধ্যে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল অপারেশন করাতে পারছেন বাসিন্দারা। রোগীকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও অপারেশন করাতে পারছেন বাসিন্দারা। 
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগীর চিকিৎসার পর রাজ্যস্তর থেকে ফোন করে খবর নেওয়া হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসায় সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চাওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে খুশি জেলার সাধারণ মানুষ। পাড়ুই পঞ্চায়েতের নিতুরি গ্রামের বাসিন্দা মির্জা আসাফ আলি বলেন, দুয়ারে সরকারে আবেদনের একদিনের মধ্যে পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালে হার্টের চিকিৎসা করিয়েছি। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, রাজ্যের মানুষের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। সার্বিকভাবে রাজ্যের সবস্তরের মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে। এই জেলায় প্রতি বছর বহু মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন। প্রশাসনিকভাবে আমরা রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে কোনও প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ