নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান পুরস্কার ২০২৫-এর প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন পাঁচ বাঙালি বিজ্ঞানী। রবিবার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মরণোত্তর বিজ্ঞানরত্ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী প্রয়াত জয়ন্তবিষ্ণু নার্লিকারকে। চলতি বছরেই তাঁর মৃত্যু হয়। আটজন বিজ্ঞানশ্রী পুরস্কার প্রাপক বিজ্ঞানী তালিকায় অবশ্য কোনও বাঙালি নাম নেই।
গত বছর থেকেই চালু হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান পুরস্কার। তার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এক সময় পৃথকভাবে চালু থাকা শান্তিস্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কারকে। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই পুরস্কার পেতে পারেন। এটিকে অন্যান্য পদ্ম পুরস্কারের সমতুল করার জন্য নগদ অর্থের বিষয়টিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগে ভাটনাগর পুরস্কার পেয়েছেন দিল্লি আইআইআইটির (ট্রিপলআইটি) কম্পিউটেশনাল বায়োলজির অধ্যাপক দেবার্ক সেনগুপ্ত। প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার জিনগত বিশ্লেষণ করে আগাম ক্যান্সারের আশঙ্কা ধরতে পারার পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেছেন। আর তা বাণিজ্যিকভাবেও জনপ্রিয় করেছেন। এর আগে ইন্সপায়ার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি।
কল্যাণীস্থিত আইসার কলকাতায় রসায়নের অধ্যাপক দিব্যেন্দু দাসও রয়েছেন পুরস্কার প্রাপকের তালিকায়। মূলত বায়োকেমিস্ট্রি বা অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে তিনি তাঁর ল্যাবে উন্নত গবেষণা চালান। আর্থ সায়েন্স বিভাগে গোয়ার ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চে কর্মরত বিজ্ঞানী ওয়ালিউর রহমানকেও এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হচ্ছে। তার কাজ মূলত ভূতাত্ত্বিক রসায়ন, আইসোটোপ নিয়ে। এর আগে ভূবিজ্ঞান দপ্তর থেকে জাতীয় স্তরের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অর্কপ্রভ বসু ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স বিভাগে ভাটনাগর পুরস্কার পাচ্ছেন। কম্পিউটার আর্কিটেকচার নিয়ে তাঁর প্রধান কাজ। এর আগে এপিজে আব্দুল কালাম ইয়াং সায়েন্টিস্ট এইচপিসি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের গণিতের অধ্যাপক সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় তাঁর বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার পাচ্ছেন।