নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কর্ণাটকের এক প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দিতে ঘুষ-কাণ্ডে শুধু ডাঃ তপনকুমার জানাই নন, নাম জড়াল এনএমসি আধিকারিকদেরও। এই ঘটনায় ২৪ মে নিজেদের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের তালিকার চার নম্বরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের আধিকারিকদের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই। সম্প্রতি তপনবাবুর গ্রেপ্তারির বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে সরকারিভাবে জানান। সেখানেই এই বৃত্তান্তের উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
এদিকে গ্রেপ্তারির পর সিবিআই হেপাজতে ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ায় ডাঃ জানাকে বরখাস্ত করতে চলেছে স্বাস্থ্যভবন। দপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা বুধবার জানান, আজ বৃহস্পতিবার আমরা এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি।
অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডাঃ জানাকে কলেজের যাবতীয় কাজকর্ম ও কমিটি থেকে সরানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। এরপরই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ তিনটি বাদে (রোগী কল্যাণ, কলেজ কাউন্সিল এবং হসপিটাল রিভিউ কমিটি) সমস্ত সরকারি কমিটি ভেঙে নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলেজের ওয়েবসাইটে তপনবাবুর অসংখ্য ছবি রয়েছে। সেগুলি সরানোর জন্য স্বাস্থ্যভবনকে প্রযুক্তিগত সাহায্য করতেও অনুরোধ করেছে তারা।
পাঁচ অভিযুক্তের উল্লেখ রয়েছে সিবিআইয়ের সেই চিঠিতে। তাঁরা হলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানাটমির প্রধান ডাঃ তপনকুমার জানা, কর্ণাটকের বেলগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজের (জেএনএমসি) অধ্যাপক ডাঃ ভি ডি পাতিল, জেএনএমসি ক্যাম্পাসের কেএলই সোসাইটি’র সেক্রেটারি ডাঃ বি জি দেশাই, বাকিরা হলেন অজ্ঞাতপরিচয় এনএমসি অফিসাররা এবং অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে ডাঃ জানা এবং এনএমসি নিযুক্ত কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় অ্যাসেসর বা মূল্যায়ণকারী পছন্দমতো পরিদর্শন রিপোর্ট বানিয়ে দেবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্ণাটকের জেএনএমসি কলেজের থেকে টাকাপয়সা দাবি করেন। ২০ মে তাঁরা জেএনএমসি পরিদর্শন করেন। এরপর ২৪ মে রাত ১১টা ১০-এ জেএনএমসি’র এক প্রতিনিধির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় ডাঃ জানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।