নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘আমাদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ো না। আমরা এখানেই পড়তে চাই,’ কাঁদতে কাঁদতে শিশুরা বলেছিল। তবে শোনা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘আমাদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ো না। আমরা এখানেই পড়তে চাই,’ কাঁদতে কাঁদতে শিশুরা বলেছিল। তবে শোনা হয়নি।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার নন্দীপাড়া শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে এখন তালা ঝুলছে। কোনও শিক্ষক নেই। শিক্ষাকেন্দ্রটি চালু হয়েছিল ২০০২ সালে। পিপি থেকে চতুর্থ শ্রেণি ক্লাস হতো। প্রায় ২৫০ ছাত্র-ছাত্রী পড়ত। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে পড়ুয়া সংখ্যা একসময় হয় ৫০। এটি ছিল গ্রামের শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার স্থান হিসেবে পরিচিত। সমস্যা শুরু হয় শিক্ষিক-শিক্ষিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায়। স্কুলের শিক্ষিকারা একে একে অবসর নেন। চলতি বছর ছিলেন মাত্র একজন। তাঁর নাম, আনসারি বেগম। তিনি অবসর নেন ২২ ডিসেম্বর। এরপর স্কুল বন্ধ বলে ঘোষণা করা হয়। পড়ুয়াদের দেওয়া হয় ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি)। তাদের দূরে অন্য স্কুলে যেতে হবে বলে জানানো হয়। তা শিশুদের ক্ষেত্রে কষ্টকর। অভিভাবকরাও এত দূরে সন্তানদের পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন। গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কাছে স্কুল সচল রাখার আবেদন জানান। কোনও সুরাহা মেলেনি। এরপর একাধিকবার শিশু পড়ুয়া স্কুল খোলার আর্জি জানিয়েছে। কিন্তু তাদের কথায় কান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। নন্দীপাড়া স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সোনালি মল্লিক বলে, ‘একজন দিদিমণি ছিলেন। তিনি এখন আসেন না। স্কুলে তালা। আমাদের স্কুল বন্ধ। বন্ধ করো না।’ ছাত্র সবুজ নন্দী বলে, ‘স্কুল বন্ধ। আমাদের টিসি দিয়েছে। অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বলেছে।’ অভিভাবক রিয়াজুল ইসলাম ও মনিরা বিবি বলেন, ‘স্কুলটি শুধু পড়াশোনার জায়গা ছিল না। ছিল আমাদের শিশুদের নিরাপদ স্থান। এখানে তারা খেলত, অনেক কিছু শিখত, বেড়ে উঠছিল। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চিন্তায়।’ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মিজানুর দফাদারের ক্ষোভ, ‘শিক্ষক সংকটের বিষয় আমরা জানিয়েছিলাম কর্তৃপক্ষকে। কেউ গুরুত্ব দেননি। স্কুলে তালা। দিদিমণি আনসারি বেগম পড়ুয়াদের টিসি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেদিন টিসি দেওয়া হল সে দিনই স্কুলের আলো, পাখা খুলে নিয়ে গিয়েছে দপ্তর। অভিভাবকরা আপত্তি করেছিলেন।’ তবে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানোর প্রসঙ্গ উড়িয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ডিপিএসই’র চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকার বলেন, ‘স্কুলে একজন শিক্ষক আছেন। আমি আরও দু’জন শিক্ষক পাঠাব শুক্রবার।’