সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে তৃণমূল কংগ্রেসের নমঃশূদ্র ও উদ্বাস্তু সেল। এনজেপি লাগোয়া এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় রেলের খালি জমিতে বছরের পর বছর ধরে বসতি গড়ে আছে বহু গরিব মানুষ। সেই বস্তি এলাকায় মাঝেমধ্যেই উচ্ছেদ নোটিস ধরাচ্ছে রেল।
এ ধরনের উচ্ছেদের বিরোধিতা করে সংগঠনের তরফে রঞ্জন মজুমদার শুক্রবার বলেন, এভাবে রেল একতরফা উচ্ছেদ করলে আমরা বিরোধিতা করব। রেলকে পুনর্বাসন দিয়েই উচ্ছেদ করতে হবে। এনজেপি স্টেশনের কাছে অম্বিকানগরে এরকম হাজার হাজার পরিবার রয়েছে। যারা রেলের অব্যবহৃত জমিতে দীর্ঘবছর ধরে বসবাস করছে। হঠাৎ করে রেল একতরফাভাবে উচ্ছেদ করলে এত মানুষ অসহায় হয়ে পড়বে, পথে বসবে।
এদিন শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে রঞ্জন মজুমদার বলেন, ২১ জুলাই ধর্মতলার সমাবেশের প্রস্তুতি সভা হিসেবে আগামী ১৩ জুলাই আমরা ফুলবাড়ির উত্তরকন্যার পাশে ছটঘাট মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছি। সেই সভা থেকে আমরা রেলের কাছে দাবি তুলব, পুনর্বাসন দিয়েই উচ্ছেদ করতে হবে। রেল হঠাৎ করে একতরফাভাবে উচ্ছেদ অভিযানে নামছে। এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এদিকে, এনজেপি স্টেশনকে বিশ্বমানের মতো করে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন চত্বরে থাকা বহু দোকান, হোটেল সরিয়ে দিয়েছে রেল। এই নিয়ে আইএনটিটিইউসি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে উচ্ছেদ হওয়া ওই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবিতে। এ প্রসঙ্গে রঞ্জনবাবু বলেন, গরিব মানুষের রুজি রোজগারে এভাবে আঘাত করা ঠিক নয়। রেল তার জমিতে উন্নয়নের কাজ করতেই পারে। তাতে আমাদের বাধা নেই। কিন্তু হঠাৎ এত মানুষের রুজি রোজগারের পথ বন্ধ করে দেওয়াও ঠিক নয়। এর দায়িত্ব রেলকে নিতে হবে। এ কারণে আমরা সর্বক্ষেত্রে জোটবদ্ধ হয়ে পুনর্বাসন দিয়েই উচ্ছেদের দাবিতে রেলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাব। যদিও এ ব্যাপারে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা জানিয়েছেন, রেল উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের জমি ব্যবহার করবে। পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় সরকারকে।