Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘চুল টেনে বিরক্ত করত নাতনি, তাই কুপিয়েছি...’ চার বছরের প্রত্যুষা খুনে চাঞ্চল্যকর বয়ান দাদুর

খুনই করা হয়েছে সোনারপুরের চার বছরের শিশু প্রত্যুষা কর্মকারকে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার কে? প্রত্যুষারই দাদু প্রণব ভট্টাচার্য।

‘চুল টেনে বিরক্ত করত নাতনি, তাই কুপিয়েছি...’ চার বছরের প্রত্যুষা খুনে চাঞ্চল্যকর বয়ান দাদুর
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: খুনই করা হয়েছে সোনারপুরের চার বছরের শিশু প্রত্যুষা কর্মকারকে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার কে? প্রত্যুষারই দাদু প্রণব ভট্টাচার্য। জেরায় উঠে এসেছে তাঁর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি। পুলিশের দাবি, ওই ৮১ বছরের বৃদ্ধ নিজেই জানিয়েছেন—‘নাতনি প্রায়ই বিরক্ত করত। কখনও চুল ধরে টানাটানি করত। কথা শুনত না। খেতে চাইত না। তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। রাগে তাই কুপিয়ে খুন করেছি।’ এই স্বীকারোক্তিতে একপ্রকার থ হয়ে যান তদন্তকারীরা। তাঁরা জানান, দাদুর সঙ্গে নাতি বা নাতনি যেটা করে, সেটা খুবই স্বাভাবিক খুনসুটি। অপত্য স্নেহের জায়গা। সেখানে একজন দাদু এমন নিষ্ঠুরভাবে যে একরত্তি নাতনিকে খুন করতে পারেন, তা ভাবা যায় না। 

Advertisement

রবিবার রাতে সোনারপুরের কোদালিয়া কদমতলায় নিজের বাড়ি থেকেই প্রত্যুষার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। খুন না অন্য কিছু? দানা বাঁধে রহস্য। কিন্তু ওইদিন রাতেই তার কিনারা করল পুলিশ। মৃতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় দাদু প্রণব ভট্টাচার্যকে। তিনি স্ত্রী মালা ভট্টাচার্যের সঙ্গে জামাইয়ের কাছেই থাকতেন। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। কীভাবে একজন দাদু তার নিজের নাতনির সঙ্গে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে, ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে এই প্রশ্নেই। অভিযুক্ত মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবাই যখন শক্তির আরাধনায় মাতোয়ারা, তখন কদমতলায় ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। কোদালিয়া কদমতলা ইউনাইটেড ক্লাব তাদের কালীপুজো এবছর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাড়া-পড়শি ঠিক করেছে, এলাকায় জ্বলবে না কোনও আলো এবং পোড়ানো হবে না আতশবাজি। জানা গিয়েছে, যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন শিশুর দিদা ছিলেন বাথরুমে। বাবা-মা দু’জনেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন কাজে। আর পরিচারিকাও ওই সময় বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে নাতনিকে ঘুম থেকে তুলে খুন করেন দাদু। পুলিশ সূত্রে খবর, তার গলায়, পিঠে, পেটে, পায়ে, মুখে এমনকি গোপনাঙ্গেও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। দিদা মালাদেবী বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় নাতনিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে পড়শিরা ছুটে আসেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে প্রত্যুষা। তবে মৃত্যুর আগে নাতনিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেটা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই জানা যাবে। যদিও তদন্তকারীদের ধারণা, এমন কিছু হয়নি। 
এদিকে পাড়া-পড়শি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রণব ভট্টাচার্যের আচরণ ভালো ছিল না। অনেকেরই সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। রবিবার সকালেও পরিচারিকার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করেছিলেন। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, আক্রোশ থেকে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়েছে একরত্তি প্রত্যুষাকে। এমন কাণ্ড বিরল! এদিকে গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ