


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআইয়ের দৌড়ে বাংলার আরও দুটি আম। মুর্শিদাবাদের গোলাপখাস এবং মোলামজামের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন গৃহীত হয়েছে জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশনস রেজিস্ট্রিতে। তবে ওই আম যে মুর্শিদাবাদের নিজস্ব সম্পদ, তার নথি যেমন দপ্তরে জমা পড়বে, সেগুলির যাচাইয়ের পরই ওই আম দুটির স্বীকৃতি মিলবে। প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলার আরো তিনটি আম জিআই তকমা পেয়েছে। সেগুলি হল ফজলি, হিমসাগর এবং লক্ষ্মণভোগ। তিনটি আমের স্বীকৃতি মিলেছে মালদহ থেকে। মুর্শিদাবাদ থেকে এই প্রথম কোনো আমের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন জমা পড়ল।
সম্রাট বাবরের মতে, আম হল ‘পৌর-ই-হিন্দ’, অর্থাৎ হিন্দুস্থানের সেরা ফল। সেই ফলের স্বর্গ যে বাংলা, তা যেকোনো খাদ্যরসিক একবাক্যে স্বীকার করবেন। সেসব আমের বেশিরভাগেরই আঁতুড়ঘর মালদহ অথবা মুর্শিদাবাদ। সম্রাট আকবরের সময় মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন আমবাগানে প্রায় দুশো রকমের আমের প্রজাতির ফলন হত। পরবর্তীকালে নবাব সিরাজদৌল্লা এবং মুর্শিদ কুলি খাঁ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির চারা আনিয়ে গড়ে তুলেছিলেন পেল্লায় আমবাগান। নবাবদের দেখানো পথ ধরেই বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল ও ফলের সঙ্গে আমের শংকর ঘটিয়ে স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় আমের অনেক নতুন প্রজাতির ফলন শুরু হয়। বিমলি, রানিপসন্দ, কোহিতুর, শাহদুল্লা, সারাঙ্গার মতো আমের জন্ম এভাবেই। গ্রীষ্মের গোড়ায় যে আমগুলি পাকা অবস্থায় প্রথম বাজারে আসে, তাদের মধ্যে আবার গোলাপখাস অন্যতম। গোলাপের মৃদু সুগন্ধ মাখা লালচে আভার হলুদ পাকা গোলাপখাস স্বাদে যেমন খাসা, দেখনদারিতেও তার জুড়ি মেলা ভার। বাংলার নানা প্রান্তে এই আমের ফলন হলেও মুর্শিদাবাদের মাটিতে তার রং-রূপ-গন্ধ আলাদা মাত্রা পায়। এই আমের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছে বহরমপুর গোরাবাজারের গোলাপখাস ম্যাঙ্গো প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন। কৃষিজ পণ্য ক্যাটিগরিতে এই আবেদন জম পড়েছে। অন্যদিকে নবাবি আমলের আরও একটি আম মোলামজামকেও মুর্শিদাবাদের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন সেখানকার চাষিরা। নওদা থেকে আমের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন জমা করেছে মোলামজাম ম্যাঙ্গো প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন। জিআই দাবির সপক্ষে আবেদনকারীদের পেশ করা নথি কতটা জোরালো তার উপরই নির্ভর করছে আম দুটির আইনি স্বীকৃতি লাভ।