Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমবাগানে গোরু ঢোকা নিয়ে বচসার জেরেই খুন

ইংলিশবাজারের মহদিপুরে প্রৌঢ়কে খুনের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বাবা ও ছেলে। ধৃতদের নাম মতিলাল ঘোষ ও রাজকুমার ঘোষ ওরফে ডাকু।

আমবাগানে গোরু ঢোকা নিয়ে বচসার জেরেই খুন
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইংলিশবাজারের মহদিপুরে প্রৌঢ়কে খুনের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বাবা ও ছেলে। ধৃতদের নাম মতিলাল ঘোষ ও রাজকুমার ঘোষ ওরফে ডাকু। তাঁরা ইংলিশবাজার থানা এলাকার মহদিপুরের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা। আমবাগানে গরু ঢুকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসার জেরেই খুন, দাবি পুলিসের। রবিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব রবিবার বলেন, মহদিপুর খুন কাণ্ডে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেরায় তাঁরা খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

Advertisement

শনিবার মহদিপুরের বাসিন্দা তপন ঘোষ এবং প্রসেনজিৎ ঘোষের আম বাগানে মতিলাল, রাজকুমারদের গরু ঢুকে পড়েছিল। সেই সময় নদু ঘোষ আম বাগান পাহারা দিচ্ছিলেন। বাগানে গরু ঢোকাকে কেন্দ্র করে বাবা ছেলের সঙ্গে নদুর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। কথা কাটাকাটি চলতে চলতেই রাজকুমার হাঁসুয়া দিয়ে নদুকে আঘাত করেন এবং মতিলাল তাঁকে বাশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ। বাবা-ছেলের বেধড়ক মারে নদুর গলা কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নদুকে মৃত ঘোষণা করেন। 
পুলিস জানিয়েছে, জেরায় বাবা ও ছেলে দু’জনেই অপরাধ স্বীকার করেছেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধৃতদের রবিবার সিজেএম কোর্টে পেশ করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। তাঁদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও একটি বাইকের খোঁজেও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। 
শনিবার সন্ধ্যায় মহদিপুরে বছর পঞ্চান্নর এক প্রৌঢ়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। খুনের তদন্ত শুরু করে লুকোচুরি ফাঁড়ি এবং ইংলিশবাজার থানার আধিকারিকরা। মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে উঠে আসে ওই এলাকার দু’জন বাসিন্দার নাম। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। এরপর পুলিস ধৃতদের আটক করে ইংলিশবাজার থানায় নিয়ে আসে। প্রথম দিকে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও শেষমেশ দু’জন ভেঙে পড়েন এবং পুলিসি জেরায় নিজেদের অপরাধ কবুল করেন। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদিকে সোমবার সকাল সকাল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হতে পারে বলে পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রৌঢ়কে খুনের পর ওই আমবাগানের কোথাও একটা ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ফেলে দেওয়া হয়েছে। খুনের সময় ব্যবহৃত একটি বাইকের খোঁজেও পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ