নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ডেঙ্গু মুক্ত দক্ষিণ দমদম গড়ে তুলতে বর্ষার শুরুতেই উদ্যোগ নিল পুরসভা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এমন গৃহস্থ বাড়ি সাফ করার কাজও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শহরের প্রায় দেড় হাজার এলাকাকে হটস্পট চিহ্নিত করে অভিযান হচ্ছে। সুডার আর্থিক সহায়তায় ও পুরসভার নিজস্ব কোষাগারের টাকায় কাজ হচ্ছে। গত তিনবছর পুর এলাকায় কমছে ডেঙ্গু। সে গ্রাফ আরও নীচের দিকে নামানো লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভবনে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে এ নিয়ে।
জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যে দক্ষিণ দমদম ডেঙ্গু প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজারের মতো। মৃত্যু হয়েছিল আটজনের। পুরসভা যদিও দাবি করে, পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হন এক হাজার ৭৮৭। মৃত্যু হয়েছিল তিনজনের। বেসরকারি মতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল আরও বেশি । ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে হয় ১০৪। মৃত্যু একজনের। বেসরকারি মত অবশ্য অন্য তথ্য দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আক্রান্তের সংখ্যা যে এক লাফে নীচে নেমে গিয়েছিল তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আক্রান্ত মাত্র একজন।
চলতি বর্ষায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে শহরজুড়ে হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে ৬০৯টি ফাঁকা জমি, ১৫২টি জলাশয় ও পুকুর, ২৯৬টি আবর্জনা ফেলার জায়গা, ৩০০টি নির্মীয়মাণ আবাসন, ২০৯টি ব্লক ড্রেন, ১০৯টি আবাসন ও অন্যান্য বিপজ্জনক জায়গা ২৮৪টি। তালিকার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাড়িও রয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধ বাড়ির চৌহদ্দির পাশাপাশি সিঁড়ি ব্যবহার করে ছাদ পরিষ্কারও হচ্ছে। সাফ করার ছবি জিপিএস থাকা ক্যামেরায় তোলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শহরজুড়ে নিয়মিত ডেঙ্গু অভিযান হবে। সে কাজে জোর দিতে বৈঠক হয় এদিন। ছিলেন সুডার আধিকারিক, পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত, সিআইসি সদস্য, কাউন্সিলার, ওয়ার্ডগুলিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজে যুক্ত কর্মীরা। চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডেঙ্গু মুক্ত পুরসভা আমাদের লক্ষ্য। টিম হিসেবে আমরা লড়াই করছি। বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে কাজে ঝাঁপাতে হবে।’